(লিড )৭২১ বছর পর ভোজশালায় শুক্রবার মহাআরতি, দেবী সরস্বতীর প্রতিমা স্থাপন করে পুজো
ধার, ২২ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক ভোজশালা-য় কয়েক শতাব্দী পর শুক্রবার পূর্ণদিবসের পুজো-অর্চনার অধিকার পেল হিন্দু সমাজ। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর শুক্রবার প্রথমবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে পুজো করার সুযো
(লিড )৭২১ বছর পর ভোজশালায় শুক্রবার মহাআরতি, দেবী সরস্বতীর প্রতিমা স্থাপন করে পুজো


ধার, ২২ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক ভোজশালা-য় কয়েক শতাব্দী পর শুক্রবার পূর্ণদিবসের পুজো-অর্চনার অধিকার পেল হিন্দু সমাজ। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর শুক্রবার প্রথমবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে পুজো করার সুযোগ মিলেছে। সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্ত ভোজশালায় ভিড় জমান এবং দেবী সরস্বতীর আরাধনায় অংশ নেন।

হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ১৫ মে ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এদিন প্রথম শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ হয়নি। প্রশাসনের তরফে গোটা ধার শহরকে কার্যত ছাউনিতে পরিণত করা হয়। ভোজশালা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নজরদারির জন্য বিশেষ টিমও সক্রিয় ছিল।

শুক্রবার সকালে ভোজ উৎসব সমিতির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা স্থাপন করা হয়। সকাল ৯টায় মহাআরতি অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে পুজো ও হোমযজ্ঞের আয়োজন করা হয়। ভোজশালা আন্দোলনে প্রাণ হারানো কারসেবকদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।

ভোজশালা মামলার অন্যতম আবেদনকারী কুলদীপ তিওয়ারি এদিন ভোজশালায় পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তিনি ভোজশালার ভিতরে থাকা ইসলামিক খিলান ও আয়াতুল কুর্সি অপসারণের দাবি জানান। এক মহিলা ভক্ত অমৃতা সাওয়ান বলেন, “প্রথমবার শুক্রবার এখানে এসে মা সরস্বতীর পুজো করতে পারলাম। এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

ভোজ উৎসব সমিতির অভিভাবক অশোক জৈন বলেন, “১৩০৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজি এই মন্দির দখল করার পর থেকেই হিন্দু সমাজের সংগ্রাম চলছিল। ৭২১ বছর পর আজ পূর্ণ মর্যাদায় মা সরস্বতীর পুজো ও মহাআরতি হল। এটা শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণেরও দিন।”

এদিন ভোজশালা চত্বরে ভক্তদের ঢল সামাল দিতে প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। পুলিশ সুপার শচীন শর্মা জানান, “হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করা হচ্ছে। সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রায় ১৮০০-র বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

মধ্যাহ্নে ভোজশালা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারসেবকদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানও হয়। বহু ভক্ত ‘জয় মা সরস্বতী’ ধ্বনি দিতে দিতে ভোজশালায় প্রবেশ করেন। ভক্তদের একাংশের দাবি, ভবিষ্যতে এখানে আরও বৃহৎ পরিসরে সরস্বতী পুজো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ হাইকোর্টের রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। কমাল মৌলানা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তরফে জানানো হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি পথেই লড়াই চালাবে। শুক্রবার বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ কালো ফিতা পরে প্রতিবাদ জানালেও মহল্লা ও বাড়িতেই নামাজ আদায় করা হয়েছে।

শহর কাজি ওয়াকার সাদিক বলেন, “আমরা শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। আদালতের নির্দেশ মেনেই চলা হবে। ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তি মিললে আগের মতো নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা হবে।”

প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদনও জানানো হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande