
ভোপাল, ২২ মে (হি.স.) : “জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হলে তবেই মানবসভ্যতাও সমৃদ্ধ হবে।” আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে ভোপালে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’ প্রি-সামিট অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
শুক্রবার ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (আইআইএফএম)-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব-এর সঙ্গে যৌথভাবে দীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও নজরদারির জন্য বনদফতরের ২০টি বিশেষ বাইক এবং একটি আধুনিক রেসকিউ ট্রাকেরও উদ্বোধন করা হয়।
ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “স্থানীয়ভাবে কাজ করুন, কিন্তু ভাবুন বৈশ্বিক স্তরে।” তাঁর মতে, উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সমাজ, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ইন্দোরকে ‘ওয়েটল্যান্ড সিটি’ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে খুব শীঘ্রই রামসার সাইটের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছতে চলেছে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৪টি সাইট ঘোষণা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘প্রজেক্ট চিতা’-র প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, চিতা ঘাসজমি পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে, যা জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বাঘ শুধু নিজের এলাকা নয়, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদও রক্ষা করে। তিনি পরামর্শ দেন, পৃথিবীর অন্তত ৩০ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে রক্ষা করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে যাদব বলেন, দেশের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত। ওষুধ, ফল এবং ভেষজ উদ্ভিদের রফতানি এর উপরই নির্ভরশীল। জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য নিরাপত্তাও সঙ্কটে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠানে ‘ইন্ডিয়াজ বায়োডাইভার্সিটি রিপোর্ট ২০২৬’-এর প্রকাশ, নাগোয়া প্রোটোকল সংক্রান্ত ভারতের প্রথম জাতীয় রিপোর্ট উন্মোচন এবং একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগের সূচনা করা হয়। এছাড়া অমরকণ্টকের জীববৈচিত্র্য হেরিটেজ সাইট ও মধ্যপ্রদেশের পবিত্র বনভূমি সংরক্ষণ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এবং মধ্যপ্রদেশের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ অহিরওয়ার।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য