
হাফলং (অসম), ২২ মে (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলার ডিমাসা এবং জেমি সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে শুক্রবার নিউ বড়ো হাফলংয়ে এক ঐতিহাসিক মীমাংসা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় জেমি কাউন্সিল, জাদিখে নাইশো হোশোম, জেমি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, এডিএসইউ, ডিএসইউ, ডিএমএ, জেডএমএ সহ উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশিষ্ট সমাজসেবী রামকুয়াম্বে জেমিও সভায় অংশগ্রহণ করেন।
বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শান্তি, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মীমাংসা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিমাসা এবং জেমি নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল এবং উভয় সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বসবাস করে আসছে। তবে ২০০৯ সালে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যাতে উভয় পক্ষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এতে উভয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।
উভয় পক্ষ অতীতের সংঘাতজনিত যন্ত্রণা ও ক্ষতি স্বীকার করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। পাশাপাশি কোনও পক্ষের উপর সম্পূর্ণ দায় না চাপিয়ে পারস্পরিক ক্ষমা, বোঝাপড়া এবং পূর্বপুরুষদের অনুসৃত ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিরোধ দেখা দিলে সহিংসতার পথ অবলম্বন না করে উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করে আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।
উভয় সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মীমাংসা সভার সমাপ্তিতে ডিমাসা ও জেমি প্রতিনিধিদের মধ্যে উপহার বিনিময় করা হয়, যা নবায়িত বন্ধুত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। চুক্তিতে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে অরূপ কুমার গার্লোসা এবং জোনাবে রিয়ামে স্বাক্ষর করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব