ডিমা হাসাও জেলায় প্রস্তাবিত ১২৫০ মেগাওয়াট পিএসপি প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা প্রকান্ত ওয়ারিশার
হাফলং (অসম), ২২ মে (হি.স.) : প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য তথা উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য প্রকান্ত ওয়ারিশা ডিমা হাসাও জেলায় প্রস্তাবিত ১,২৫০ মেগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার (পিএসপি) প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা ক
ডিমা হাসাও জেলায় প্রস্তাবিত ১২৫০ মেগাওয়াট পিএসপি প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা প্রকান্ত ওয়ারিশার


হাফলং (অসম), ২২ মে (হি.স.) : প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য তথা উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য প্রকান্ত ওয়ারিশা ডিমা হাসাও জেলায় প্রস্তাবিত ১,২৫০ মেগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার (পিএসপি) প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

প্রকান্ত ওয়ারিশার বক্তব্য, এই প্রকল্পের ফলে জেলার আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বনাঞ্চল, নদ-নদী, পবিত্র ডাইখো এবং সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, পরিবেশকর্মী এবং স্থানীয় সংগঠনগুলির উদ্দেশে জারিকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ারিশা বলেন, উন্নয়নের নামে মোতি হোজাই, মোতি লাম্পু ও রিয়াম বাথারি সহ একাধিক গ্রামের মানুষ উচ্ছেদের শিকার হতে পারেন। পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রকান্ত ওয়ারিসা সতর্ক করে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাপক হারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জৈববৈচিত্র্যের ক্ষতি, ভূমিধস এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে। পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ডিমা হাসাও জেলার জন্য এটি ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ডিমাসা সম্প্রদায়ের পবিত্র উপাসনাস্থল ‘ডাইখো’ ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এই ডাইখোগুলি আদিবাসী সমাজের কাছে গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বহন করে।

প্রকল্পটি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন প্রকান্ত। পাশাপাশি প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত নথি, যেমন এমওইউ (মউ) ডিপিআর এবং পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট অবিলম্বে সর্বসাধারণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া তিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন পরিচালনার দাবি জানান। একই সঙ্গে পবিত্র ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অর্থবহ গণশুনানির আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রকান্ত।

ওয়ারিশা বলেন, এলাকার মানুষ উন্নয়নের বিরোধী নন, তবে উন্নয়ন এমন হতে হবে যা আদিবাসীদের অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে সম্মান করে। তিনি সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে ডিমা হাসাওয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande