সরকারের কাজ ফাইল নয়, মানুষের জীবনে তার প্রভাবই আসল : শিবরাজ সিং চৌহান
নয়াদিল্লি, ২২ মে (হি.স.) : সরকারের সাফল্য কাগজে-কলমে নয়, তার প্রতিফলন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে—এই বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। শুক্রবার কৃষি ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট কর
সরকারের কাজ ফাইল নয়, মানুষের জীবনে তার প্রভাবই আসল : শিবরাজ সিং চৌহান


নয়াদিল্লি, ২২ মে (হি.স.) : সরকারের সাফল্য কাগজে-কলমে নয়, তার প্রতিফলন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে—এই বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। শুক্রবার কৃষি ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনকে সহজ করা, তাদের হয়রানি নয়।

মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার উদ্দেশ্য যদি শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে না পৌঁছায়, তবে পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই কারণেই তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন—শুধু অভিযোগ নথিভুক্ত করা বা কাগজে নিষ্পত্তি দেখানো নয়, বাস্তবে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে থাকা আলাদা আলাদা পোর্টাল ও অভিযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই বিচ্ছিন্নতা অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য জটিলতা তৈরি করে। তাই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অন্তত দশজন করে আধিকারিকের বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে অভিযোগ ও জনসমস্যার পর্যালোচনা করবেন।

শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “প্রশাসনের কাজ কেবল ফাইল সরানো নয়, মানুষের সমস্যার গভীরে পৌঁছে সমাধান খুঁজে বের করা।” তিনি আরও জানান, যেসব জায়গায় মানুষ বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেখানে নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানো সম্ভব, তবে তার জন্য দরকার বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কার্যকর তথ্য-সমন্বয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আদালত সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শক্তিশালী আইনি প্রস্তুতির উপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ভালো প্রকল্প হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ জানতেই পারেন না। তাই আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম—ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, গ্রাফিক্স ও সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর তিনি জোর দেন।

“বিকশিত ভারত ২০৪৭” লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিটি বিভাগকে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরির নির্দেশও দেন তিনি। তবে তার চেয়েও বড় বার্তা ছিল একটাই—সরকারি কাজের প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তার স্পর্শে বদলে যায় মানুষের জীবন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande