পশ্চিম এশিয়া সংকটের জের, বাংলার হাসপাতালগুলিতে স্যালাইন ও জরুরি ওষুধের ঘাটতির আশঙ্কা
কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : পশ্চিম এশিয়ায় জারি থাকা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরোক্ষ প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও। রাজ্যে স্যালাইন-সহ একাধিক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে সতর্কবার্তা জা
ওষুধের ঘাটতির আশঙ্কা


কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : পশ্চিম এশিয়ায় জারি থাকা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরোক্ষ প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও। রাজ্যে স্যালাইন-সহ একাধিক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এই মর্মে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি জরুরি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন জীবনদায়ী ওষুধ, রাসায়নিক উপাদান, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর আমদানি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্কট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর সমস্ত সরকারি হাসপাতাল এবং জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে, তালিকায় থাকা ঘাটতিযুক্ত সামগ্রীগুলি যেন প্রয়োজনে ‘নন-লিস্টেড’ (তালিকা-বহির্ভূত) ক্যাটাগরির অধীনে দ্রুত স্থানীয় স্তর থেকে কিনে নেওয়া হয়।

সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী, মূলত প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ১০০ মিলি লিটার স্যালাইন, প্যান্টোপ্রাজল ট্যাবলেট, ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট), মেটফরমিন ট্যাবলেট, টেলমিসার্টন ট্যাবলেট এবং ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ আপাতত ধাক্কা খেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে পণ্য পরিবহণ খরচ (ফ্রেইট চার্জ) এবং জ্বালানির দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি ওমান ও ইরান সংলগ্ন ‘হরমূজ প্রণালী’ -র মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। এই সমুদ্র পথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে বিবেচিত হয়।

নবান্ন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পেট্রো-রাসায়নিক পণ্য এবং প্যাকেজিং উপাদানের বিশ্বব্যাপী ঘাটতির প্রভাব এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রেও স্পষ্ট দৃশ্যমান। তবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর গোটা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হাসপাতালগুলিতে যাতে জরুরি ওষুধের কোনও অভাব না হয়, তার জন্য সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande