
শ্রীভূমি (অসম), ২২ মে (হি.স.) : যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে শ্রীভূমি জেলায় আরও জোরদার করা হয়েছে সক্রিয় যক্ষ্মা শনাক্তকরণ কার্যক্রম। জেলা স্বাস্থ্য সমিতি ও এনএইচএম-এর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল মেডিকেল ইউনিটের সহায়তায় পোর্টেবল এক্স-রে স্ক্রিনিং ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যক্ষ্মা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। পোর্টেবল বুকের এক্স-রে ব্যবস্থার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের স্থানীয় স্তরেই প্রাথমিক স্ক্রিনিং করা সম্ভব হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার নাগাল সীমিত এমন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও দ্রুত রোগ নির্ণয় সহজ হয়ে উঠছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও মোবাইল মেডিকেল ইউনিট দলের সহায়তায় এই ক্যাম্পগুলি পরিচালিত হচ্ছে। যক্ষ্মার উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁদের আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
শ্রীভূমির জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক ডা. রোশন আরা বেগম জানান, তৃণমূল পর্যায়ে পোর্টেবল বুকের এক্স-রে স্ক্রিনিংয়ের এই নতুন পদ্ধতি সম্ভাব্য যক্ষ্মা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করতে বিশেষভাবে সহায়ক হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলের মানুষ সহজে স্বাস্থ্য পরিষেবা পান না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে এবং যক্ষ্মা নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী টিবি মুক্ত ভারত অভিযান-এর অধীনে পরিচালিত ‘নিক্ষয় মিত্র’ উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলি স্বেচ্ছায় যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টি সহায়তা, রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত সহায়তা এবং জীবিকা সম্পর্কিত সহযোগিতা প্রদান করতে পারেন।
ডা. বেগম বলেন, নিক্ষয় মিত্র উদ্যোগ সমাজের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করছে এবং এর মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া, পুষ্টি নিশ্চিত করা ও সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা সম্ভব হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, এই জোরদার স্ক্রিনিং কার্যক্রম যক্ষ্মা নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্রুত রোগ নির্ণয়, সময়মতো চিকিৎসা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহায়তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণ বৃদ্ধি, সংক্রমণ হ্রাস এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য সমিতি ও এনএইচএম।
জেলা স্বাস্থ্য সমিতি, এনএইচএম শ্রীভূমি জেলার সাধারণ মানুষকে যক্ষ্মা স্ক্রিনিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি ‘নিক্ষয় মিত্র’ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে যক্ষ্মা রোগীদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং যক্ষ্মা নির্মূলে সময়মতো স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস