
মোহনপুর, ২২ মে (হি.স.) : জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা চাম্পা মুণ্ডা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পেয়ে নতুন করে বাঁচার আশা জেগেছিল তাঁর মনে। কিন্তু সেই স্বপ্নই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল বলে অভিযোগ। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিমনার ব্রহ্মকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের জনৈক নির্বাচিত সদস্যের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার শেষ কিস্তির ৩২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিমনা বিধানসভার ব্রহ্মকুণ্ড এলাকায়।
জানা গেছে, ব্রহ্মকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মূলত চা শ্রমিক পরিবার অধ্যুষিত এলাকা। দীর্ঘ দারিদ্র্য ও অনটনের মধ্যেই বসবাস করেন বৃদ্ধা চাম্পা মুণ্ড। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় তিনি দুই কিস্তিতে মোট ৯৬ হাজার টাকা পান। সেই অর্থে অনেক কষ্টে নিজের ছোট্ট স্বপ্নের ঘর তৈরি করেন। তবে ঘরের চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়ার কাজ তখনও বাকি ছিল।
অভিযোগ, সেই সুযোগেই এগিয়ে আসেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চায়েত সদস্য কিষাণ সাঁওতাল। তিনি বৃদ্ধাকে আশ্বাস দেন, ঘরের বাকি কাজ তিনি সম্পূর্ণ করে দেবেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু টিন এনে সাময়িকভাবে ঘরের চারপাশে লাগিয়ে ছবি তুলে পঞ্চায়েতে জমা দেওয়া হয়। সেই ছবি দেখিয়ে চাম্পা মুণ্ডার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার শেষ কিস্তির ৩২ হাজার টাকা ঢুকিয়ে নেওয়া হয়।
এরপরই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। চাম্পা মুণ্ডার পরিবারের অভিযোগ, কিষাণ সাঁওতাল নিজেই বৃদ্ধাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে দুই দফায় পুরো ৩২ হাজার টাকা তুলে নেন। শুধু তাই নয়, টাকা তোলার পর ঘরে লাগানো টিনগুলোও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে আজও অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে বৃদ্ধার স্বপ্নের বাড়ি।
ঘটনায় অসহায় চাম্পা মুণ্ডা ও তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছেন। বৃদ্ধার ছেলে কৃষ্ণা মুণ্ডা জানান, বিষয়টি পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত ঘরটি সম্পূর্ণ করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা।
পরিবারের দাবি, অবিলম্বে চাম্পা মুণ্ডার অসম্পূর্ণ ঘরটি সম্পূর্ণ করে দিতে হবে এবং অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য কিষাণ সাঁওতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
একদিকে সরকারের আবাস যোজনার মাধ্যমে গরিব মানুষের মাথার উপর ছাদ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ— এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন অসহায় বৃদ্ধার শেষ সম্বল নিয়েও যদি প্রতারণা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে ন্যায়বিচার পাবে?
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ