বজ্রপাতে মৃত্যু দিনমজুরের, শোকে স্তব্ধ লালজুড়ি
ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২২ মে (হি.স.) : এক মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিল একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটিকে। বজ্রপাতের ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু হল দিনমজুর শ্রমিক নারায়ণ দে-র। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকরায় থানাধীন লালজুরী তিন নম্বর ওয়
মৃতদেহ উদ্ধার


ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২২ মে (হি.স.) : এক মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিল একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটিকে। বজ্রপাতের ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু হল দিনমজুর শ্রমিক নারায়ণ দে-র। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকরায় থানাধীন লালজুরী তিন নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাবার বাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন নারায়ণ দে। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। তার মধ্যেই ঘটে তীব্র বজ্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নারায়ণ দে। বৃষ্টি থামার পর সহকর্মীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রত্যক্ষদর্শী চয়ন দে জানান, “আমরা পাঁচজন মিলে রাবার বাগানে কাজ করছিলাম। আচমকাই প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে ভয়ঙ্কর বজ্রপাত। পরে দেখি নারায়ণদা মাটিতে পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে দমকল ও থানায় খবর দেওয়া হয়। সবাই মিলে দ্রুত কাঞ্চনবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।”

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মৃতের পরিবারের সদস্যরা, স্থানীয় মানুষজন এবং পুলিশ কর্মীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। মৃতের ভাই রমাপদ দে জানান, কাজের সূত্রে নারায়ণ লালজুড়ির বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান কুমারঘাটের অতিরিক্ত মহকুমা শাসক ডেভিড এল হালামের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল। পরে তাঁরা মৃতের বাড়িতেও যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আপাতকালীন সহায়তা হিসেবে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি জানানো হয়, পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

ফটিকরায় হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে অর্থ সহায়তা মিললেও পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না— এই বাস্তবতা যেন বারবার ভেঙে দিচ্ছে স্বজনদের মন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande