রেশন দুর্নীতির সঙ্গে কোনওরকম আপোষ নয়, স্বচ্ছতার নির্দেশ মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার
কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের খাদ্য দফতরে অতীতে ঘটে যাওয়া নানাবিধ দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি যাতে আর কোনওভাবেই না হয়, সে ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার নবান্ন
সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার


কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের খাদ্য দফতরে অতীতে ঘটে যাওয়া নানাবিধ দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি যাতে আর কোনওভাবেই না হয়, সে ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার নবান্নে খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এদিন তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেন যে, ধান কেনা থেকে শুরু করে রেশনে অর্থাৎ গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার—কোনও ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সঙ্গে কোনওরকম আপোস করা হবে না।

​উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার প্রতিটি ডিস্ট্রিক্ট অফিসারকে (জেলা আধিকারিক) পরিষ্কার জানিয়ে দিন, অতীতে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই কথা ফের এদিনের বৈঠকে উল্লেখ করে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া আধিকারিকদের উদ্দেশে জানান, আগামীদিনে খাদ্য দফতরের দুর্নীতি নিয়ে যেন আর কাউকে কলম ধরতে না হয়।

​এদিনের ওই বৈঠকে কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান ক্রয় প্রক্রিয়ায় ফড়ে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, “খাতায়-কলমে এক রকম হিসেব দেখানো হয়েছে, অথচ বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা। ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল, যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

​পাশাপাশি, আটা সরবরাহ নিয়ে রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগের বৈঠকেই আটা সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পরিবর্তে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এফসিআই) থেকে সরাসরি যে গম আসবে, সেটিই উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “মাঝখানে আর কোনও মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল থাকবে না।”

​রেশন কার্ড তৈরির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলে এদিনের বৈঠকে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আধিকারিকদের সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “রেশন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।” একই সঙ্গে চালের গুণগতমান নিয়েও আপসহীন মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি। খাদ্য পরিদর্শকদের (ফুড ইনস্পেক্টর) উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “চালের মান নিয়ে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা होगा না। এনাফ ইজ ইনাফ (অনেক হয়েছে, আর নয়)।”

​মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কাজের তদারকি করতে তিনি নিজে যে কোনও সময় সরকারি গুদাম পরিদর্শনে যেতে পারেন। এমনকি মিল মালিকদের গুদামেও হঠাৎ আকস্মিক পরিদর্শনে যাবেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “সরকারের সমস্ত অর্থ উদ্ধারের সময় এবার এসে গিয়েছে।”

​এদিনের বৈঠকে বীরভূম জেলায় ২২ কোটি টাকার একটি দুর্নীতির অভিযোগও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। কোনও অবস্থাতেই যে দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করা হবে না, তা তিনি আবারও পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande