
আগরতলা, ২২ মে (হি.স.) : পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং মার্কশিট সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সরব হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে “ছিনিমিনি খেলা” বন্ধ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এবিভিপি ত্রিপুরা প্রদেশের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ও অধীনস্থ কলেজগুলির চলমান প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে এবিভিপি-র ত্রিপুরা প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক রবিশঙ্কর হালদার অভিযোগ করেন, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার অধীনস্থ বিভিন্ন কলেজের অব্যবস্থাপনার কারণে রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। বহু ছাত্রছাত্রী নিয়মিত পরীক্ষা দেওয়ার পরও ফলাফলে তাদের “এবসেন্ট” বা অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। আবার অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী অকারণে ব্যাক পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ব্যাক পরীক্ষা দেওয়ার পরও আগের মতো একই নম্বর দেখানো হচ্ছে বলে দাবি এবিভিপি-র।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল প্রকাশের ওয়েবসাইট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ফলাফল দেখতে পারছেন না। বিশেষ করে শেষ সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ওই মার্কশিট জমা না দিলে চূড়ান্ত সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। হাতে মাত্র দুই থেকে তিনদিন সময় থাকায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।
রবিশঙ্কর হালদার জানান, বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এবিভিপি প্রতিনিধিদল দেখা করে। পরে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও মূল সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ কোনও সদুত্তর দেয়নি। কেন ফলাফল ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে না, কেন উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে কিংবা কেন বারবার ব্যাক ফলাফল আসছে— এই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এবিভিপি-র অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায় চাপাচ্ছে কলেজ প্রশাসনের উপর, আবার কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সমস্যার প্রকৃত সমাধান না হয়ে ছাত্রছাত্রীরাই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধান এবং ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে এবিভিপি। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও, উচ্চ শিক্ষা দফতর ঘেরাও-সহ একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যা সমগ্র রাজ্য প্রত্যক্ষ করবে বলেও মন্তব্য করেন রবিশঙ্কর হালদার।
এদিকে একই দাবিতে শুক্রবার আগরতলায় মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবিভিপি-র ছাত্রীরা। ফল প্রকাশে অনিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ শ্যামল দাসের কুশপুতুলও দাহ করা হয়। আন্দোলনরত ছাত্রীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ