ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতির প্রতিবাদে ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজে এবিভিপি-র বিক্ষোভ
ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২২ মে (হি.স.) : ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একের পর এক প্রশাসনিক গাফিলতি এবং উপাচার্য শ্যামল দাসের ভূমিকার প্রতিবাদে শুক্রবার তীব্র আন্দোলনে নামে শা
কলেজে বিক্ষোভ


ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ২২ মে (হি.স.) : ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একের পর এক প্রশাসনিক গাফিলতি এবং উপাচার্য শ্যামল দাসের ভূমিকার প্রতিবাদে শুক্রবার তীব্র আন্দোলনে নামে শাসক ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কলেজের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন, উপাচার্যের কুশপুতুল দাহ এবং জোরালো স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা কলেজ চত্বর।

এদিন এবিভিপি-র ডাকে কলেজের বহু ছাত্রছাত্রী আন্দোলনে সামিল হন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পরও বহু ছাত্রছাত্রীর নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এর ফলে পরবর্তী সেমিস্টারের ফর্ম ফিলাপ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে পড়ুয়াদের।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, যেসব ছাত্রছাত্রী পুনরায় পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও বেক দেখানো হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা দেওয়ার পরও অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এবিষয়ে এবিভিপি ফটিকরায় কলেজ শাখার নেত্রী দীপশিখা নাগ বলেন, “ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম গাফিলতির কারণে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদাসীন ভূমিকা পালন করছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব আমরা।”

আন্দোলনের এক পর্যায়ে তীব্র স্লোগানের মাঝে উপাচার্য শ্যামল দাসের কুশপুতুল দাহ করেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে এবং মুহুর্মুহ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর।

ঘটনা প্রসঙ্গে এবিভিপি ফটিকরায় কলেজ শাখার সম্পাদক পবন দাস অভিযোগ করেন, “সমস্যার সমাধানের জন্য ছাত্রছাত্রীরা কলেজে গেলে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে কলেজে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের গাফিলতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কলেজ কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। পরে দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। আন্দোলনের শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও তুলে দেয় এবিভিপি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande