রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদনের পথে দেশ, ৩৭৬৫ লক্ষ টনের পূর্বাভাস
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (হি.স.) : দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বুধবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রধান কৃষিজ ফসলের তৃতীয় অগ্রিম উৎপাদন অনুমান প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এ বছর দেশের ম
রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদনের পথে দেশ, ৩৭৬৫ লক্ষ টনের পূর্বাভাস


নয়াদিল্লি, ২৭ মে (হি.স.) : দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বুধবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রধান কৃষিজ ফসলের তৃতীয় অগ্রিম উৎপাদন অনুমান প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এ বছর দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩৭৬৫.৬৩ লক্ষ টনে পৌঁছতে পারে। যা গত বছরের ৩৫৭৭.৩২ লক্ষ টনের তুলনায় প্রায় ১৮৮ লক্ষ টন বা ৫.৩ শতাংশ বেশি। এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকার কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত মানের বীজ, গবেষণা এবং কৃষকদের সচেতনতার ফলেই উৎপাদনে এই সাফল্য এসেছে।

ফসলভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ধান উৎপাদন ১৫৪০.২৪ লক্ষ টন হতে পারে, যা গত বছরের ১৫০১.৮৪ লক্ষ টনের তুলনায় ৩৮.৪০ লক্ষ টন বেশি। গম উৎপাদনের সম্ভাবনা ১২০৬.৫৭ লক্ষ টন, যা গত বছরের তুলনায় ২৭.১২ লক্ষ টন বেশি। ভুট্টা উৎপাদনও রেকর্ড ৫৫০.৯৩ লক্ষ টনে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১৬.৮৪ লক্ষ টন বেশি।

এছাড়া শ্রীঅন্ন বা মিলেট উৎপাদন ১৭৫.৮৪ লক্ষ টন হতে পারে। ডালশস্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ছোলার উৎপাদন ১২৫.১৪ লক্ষ টন এবং মসুর ডাল ১৭.৬২ লক্ষ টনে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান।

তৈলবীজ উৎপাদনও রেকর্ড স্তরে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রক। মোট তৈলবীজ উৎপাদনের অনুমান ৪৩০.৫৯ লক্ষ টন। এর মধ্যে চিনাবাদাম উৎপাদন ১৩০.৭৪ লক্ষ টন হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১১.৩২ লক্ষ টন বেশি। সরষে ও রাই উৎপাদনের সম্ভাবনা ১৩৭.৬৮ লক্ষ টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ লক্ষ টন বেশি। সয়াবিন উৎপাদন ধরা হয়েছে ১২৫.৯৬ লক্ষ টন।

আখ উৎপাদনও রেকর্ড ৫০০০.৬৩ লক্ষ টনে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। পাশাপাশি তুলো উৎপাদন ২৯০.২৪ লক্ষ গাঁট এবং পাট উৎপাদন ৯১.৭৬ লক্ষ গাঁট হতে পারে।

শিবরাজ সিং চৌহান জানান, ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর) এবং তার অধীনস্থ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে এই সাফল্যের পিছনে। জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, বৃষ্টিনির্ভর কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণার ফল সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ সালে দেশের বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলের জন্য মোট ৩৩৯টি নতুন ফসলের জাত প্রকাশ করেছে আইসিএআর। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যশস্য, ডাল, তৈলবীজ, বাণিজ্যিক ফসল এবং পশুখাদ্য ফসল। ২০২৪-২৫ সালে ব্রিডার সিড উৎপাদন ১,০৯,৩৭০.২ কুইন্টালে পৌঁছেছে এবং মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন হয়েছে ৪,৩৩,১১৪.৭ কুইন্টাল।

কৃষিমন্ত্রীর দাবি, দেশের কৃষি উৎপাদনের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande