
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (হি.স.) : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বুধবার দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এর সাংবিধানিক বৈধতা স্বীকার করলেও রায়ের একাধিক পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে।
বুধবার কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে সিংভি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সেই ক্ষমতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে। তা সত্ত্বেও কোটি কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিংভির বক্তব্য, আদালতের রায়ের ৯৭ থেকে ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদ পড়লেই বোঝা যায় নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং পরে তাঁদের নাম ফের তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আদালতে দায়ের করা মামলার ফলেই এই সংশোধন সম্ভব হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তাড়াহুড়ো করে ত্রুটিপূর্ণভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করেছিল নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও নাগরিক সমাজ হস্তক্ষেপ না করলে এই ভুলগুলো থেকেই যেত বলে দাবি করেন তিনি।
সিংভির মতে, এসআইআর-এর সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল অত্যন্ত কম সময়সীমা। বিহারে এই প্রক্রিয়ার জন্য মাত্র চার মাস এবং পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার বদলে অন্য সময়ে এই প্রক্রিয়া চালানো হলে এত সমস্যা তৈরি হত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়, তারপর সেই সিদ্ধান্তের পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যায়। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত ছিল বলেও সুপ্রিম কোর্টের প্রতি ইঙ্গিত করেন তিনি।
সিংভি বলেন, আদালত তাদের রায়ে আধার কার্ড ও রেশন কার্ডকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে মানেনি। সেই একই যুক্তিতে জন্ম শংসাপত্র, বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র বা মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিটও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না। অথচ নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই ধরনের নথির ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেখানে আপিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রায় ছ’হাজার আপিলের মধ্যে চার হাজারই গৃহীত হয়। এর থেকেই বোঝা যায়, বহু মানুষের নাম ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যদিও এর মধ্যেই নির্বাচন হয়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, বুধবার সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে বৈধ ও সাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকার শুদ্ধতা বজায় রাখা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সন্দেহজনক নাগরিকত্বের বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য