চারধাম যাত্রাপথে ঘোড়া-খচ্চর চলাচলে নতুন এসওপি, নির্ধারিত হল সংখ্যা ও নজরদারি ব্যবস্থা
দেহরাদূন, ২৭ মে (হি.স.) : উত্তরাখণ্ড সরকার চারধাম যাত্রাপথে ঘোড়া-খচ্চরের চলাচলের জন্য নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালু করল। কেদারনাথ ধাম, যমুনোত্রী ধাম, হেমকুণ্ড সাহিব এবং আদি কৈলাস যাত্রাপথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাত্রা
চারধাম যাত্রাপথে ঘোড়া-খচ্চর চলাচলে নতুন এসওপি, নির্ধারিত হল সংখ্যা ও নজরদারি ব্যবস্থা


দেহরাদূন, ২৭ মে (হি.স.) : উত্তরাখণ্ড সরকার চারধাম যাত্রাপথে ঘোড়া-খচ্চরের চলাচলের জন্য নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালু করল। কেদারনাথ ধাম, যমুনোত্রী ধাম, হেমকুণ্ড সাহিব এবং আদি কৈলাস যাত্রাপথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অশ্বজাতীয় প্রাণীদের সুরক্ষা ও কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বুধবার জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় অতিরিক্ত সচিব সন্তোষ বড়োনি জানিয়েছেন, নৈনিতাল হাই কোর্ট এবং ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)-এর নির্দেশ মেনেই এই নতুন এসওপি তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন যাত্রাপথে ঘোড়া-খচ্চর চলাচলের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেদারনাথ যাত্রাপথে সর্বাধিক পাঁচ হাজার, হেমকুণ্ড সাহিব রুটে প্রায় ১ হাজার ৫০ এবং যমুনোত্রী পথে প্রায় ৫৯৫টি অশ্বজাতীয় প্রাণী চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত ঘোড়া ও খচ্চরের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গ্ল্যান্ডার্স পরীক্ষা, ইয়ার ট্যাগিং এবং মাইক্রোচিপ বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য শংসাপত্রের মেয়াদ হবে ৪৫ দিন। এরপর ফের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনও পশুর চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রাণী কল্যাণের কথা মাথায় রেখে প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর পরিষ্কার ও হালকা গরম পানীয় জল, পশুখাদ্য এবং ইলেকট্রোলাইটের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশুদের আঘাত বা ঘা এড়াতে হালকা ও জলরোধী জিন ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

নজরদারির জন্য যাত্রাপথে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং প্রতিটি জেলায় আধিকারিক ও পশুচিকিৎসকদের মোতায়েন করা হবে। আহত বা অসুস্থ পশুর কাছ থেকে কাজ করানো, অতিরিক্ত বোঝা চাপানো, পশুকে মারধর করা, দ্রুত দৌড় করানো এবং টোকেন ছাড়া চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ১৯৬০ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় দোষী প্রমাণিত হলে পশুমালিকের লাইসেন্স বাতিল করে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে এবং এফআইআর দায়ের করা হবে।

নতুন এসওপি অনুযায়ী, প্রতিটি পশুর সঙ্গে চালকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কোনও পশু চালক ছাড়া বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক জন মালিক সর্বাধিক দুটি অশ্বজাতীয় প্রাণী পরিচালনা করতে পারবেন এবং প্রতিদিন শুধুমাত্র একটি টোকেন দেওয়া হবে।

সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের পরে পশু চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্তই টোকেন দেওয়া হবে। খারাপ আবহাওয়া, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা তুষারপাতের সময় পশু চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

এছাড়াও স্থায়ী ও অস্থায়ী পশু চিকিৎসাকেন্দ্র, ২৪ ঘণ্টার ইনফার্মারি পরিষেবা, অতিরিক্ত চেক পোস্ট, মিউল টাস্ক ফোর্স, ডিজিটাল রেকর্ডিং ব্যবস্থা এবং রাতের টহলের ব্যবস্থাও চালু করা হবে। পশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪x৭ হেল্পলাইন চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande