ভূভারতী আইন জাতীয় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে; তেলেঙ্গানার ৫ লক্ষের আবাসন উদ্যোগ একটি বিরাট সাফল্য: পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি
নয়াদিল্লি/হায়দরাবাদ, ২৭ মে (হি.স.): বিশেষ সাক্ষাৎকার: ইন্দ্রাণী সরকার | হিন্দুস্থান সমাচার হিন্দুস্থান সমাচারকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে, তেলেঙ্গানার রাজস্ব ও আবাসন মন্ত্রী পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ‘ভ
পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি


নয়াদিল্লি/হায়দরাবাদ, ২৭ মে (হি.স.):

বিশেষ সাক্ষাৎকার:

ইন্দ্রাণী সরকার | হিন্দুস্থান সমাচার

হিন্দুস্থান সমাচারকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে, তেলেঙ্গানার রাজস্ব ও আবাসন মন্ত্রী পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ‘ভূভারতী’ সংস্কার, রাজস্ব ডিজিটালাইজেশন, শত্রু সম্পত্তি সুরক্ষা, ইন্দিরাম্মা আবাসন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, হায়দরাবাদের সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর উন্নয়ন, কৃষক কল্যাণ এবং তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মুখ্য বিষয়সমূহ

‘ভূভারতী আইন’ দেশের জন্য একটি পথপ্রদর্শক মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

তেলেঙ্গানায় ১০ হাজার কোটি মূল্যের শত্রু সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ।

‘ইন্দিরাম্মা আবাসন যোজনা’র অধীনে বাড়ি নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

তেলেঙ্গানা সরকার বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

রাজ্যে বিআরএস অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ

প্রশ্ন: তেলেঙ্গানায় আপনাদের আড়াই বছরের শাসনকালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?

উত্তর: নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ আমরা বাস্তবায়ন করেছি। এছাড়া এমন বেশ কিছু প্রকল্পও আমরা চালু করেছি যা সেই সময়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তৎকালীন সময়ে আমাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (যিনি তখন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ছিলেন) এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ভট্টি বিক্রমরকার দ্বারা ঘোষিত যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল 'ধরণী' পোর্টালের বিলোপ— পূর্ববর্তী সরকারের তৈরি এই ব্যবস্থাটি লক্ষ লক্ষ কৃষক ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর আমরা সমাজের সব স্তরের মানুষের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে 'ভূভারতী আইন' প্রণয়ন করি। এই আইনটি এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটি আলোকবর্তিকা বা পথপ্রদর্শক হিসেবে গড়ে উঠছে।

ভূভারতী এবং রাজস্ব ডিজিটালাইজেশন

প্রশ্ন: ভূভারতী পোর্টাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট পরিষেবাগুলো সম্পর্কে যদি একটু বিস্তারিত বলেন?

উত্তর: কৃষকদের স্বচ্ছ ও সহজতর পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা ভূমি, সমীক্ষা এবং নিবন্ধন দফতরকে একই ছাতার নিচে এনে সমন্বিত 'ভূভারতী' পোর্টালটি তৈরি করেছি। আমরা এই পোর্টালটি এমনভাবে তৈরি করেছি যাতে কৃষকরা ঘরে বসেই ভূমি সংক্রান্ত পরিষেবাগুলো পেতে পারেন; এর জন্য অতীতের মতো আর 'মি-সেবা' কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভূভারতী আইনের বিধান অনুযায়ী, আমরা এমন একটি নিয়ম চালু করছি যার ফলে কৃষিজমি নিবন্ধনের সময় সমীক্ষা ম্যাপ সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে, যা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। আমরা প্রতিটি সমীক্ষা ম্যাপে একটি অনন্য নম্বর প্রদান করছি এবং প্রতিটি সমীক্ষা নম্বরের বিপরীতে একটি ‘ভূধার’ নম্বর বরাদ্দ করছি— যা আধার নম্বরের মতোই একটি অনন্য শনাক্তকারী হিসাবে কাজ করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে পুরো রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু করতে চাই। ইতিমধ্যেই রাজ্যের পাঁচটি মণ্ডলে পরীক্ষামূলকভাবেএই উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষা: শত্রু সম্পত্তির ওপর বিশেষ নজর

প্রশ্ন: শত্রু সম্পত্তি এবং বিতর্কিত সরকারি জমি দিন দিন শাসনকার্যে একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠছে, এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

উত্তর: তেলেঙ্গানা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত্রু সম্পত্তি রক্ষা এবং সেগুলোর অবৈধ দখলদারিত্ব প্রতিরোধ করাকে রাজস্ব দফতর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের শত্রু সম্পত্তি রয়েছে।

কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এই সম্পত্তিগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত রেকর্ড নিয়ম মেনে ডিজিটালাইজ করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত 'কাস্টোডিয়ান অব এনিমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া'-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে রাজ্যের রাজস্ব বিভাগ এই সম্পত্তিগুলো চিহ্নিতকরণ ও সুরক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হলো ভূমি প্রশাসনকে শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারি সম্পত্তির কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কল্যাণমূলক প্রকল্প সরবরাহ ও বিরোধীদের সমালোচনা

প্রশ্ন: বিরোধীদের অভিযোগ যে আপনাদের অনেক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি, এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

উত্তর: পূর্ববর্তী বিআরএস সরকার আমাদের হাতে এমন এক তেলেঙ্গানা তুলে দিয়েছিল যা একসময় উদ্বৃত্ত তহবিলের রাজ্য ছিল, কিন্তু তারা এটিকে ৮ লক্ষ কোটিরও বেশি ঋণের বোঝায় ডুবিয়ে দিয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, বর্তমানে আমাদের প্রতি মাসে শুধুমাত্র সুদের কিস্তি বাবদ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমরা জনগণের কাছে কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উন্নয়ন কর্মসূচি পৌঁছে দিচ্ছি। পুরো দেশের মধ্যে কর্ণাটক সরকারের পর তেলেঙ্গানা হলো দ্বিতীয় কংগ্রেস শাসিত রাজ্য, যারা নারীদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের সুবিধা চালু করেছে, সাথে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। আমাদের পথ অনুসরণ করে পরবর্তীতে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরলম, পশ্চিমবঙ্গ এবং আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যের সরকার এখন এই বিনামূল্যে বাস পরিষেবার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

ইন্দিরাম্মা আবাসন: ঘর এবং আস্থা

প্রশ্ন: আপনি যে সমস্ত প্রধান প্রকল্পগুলোর কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন, তার মধ্যে কোনটি জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে?

উত্তর: রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর বর্তমানে প্রায় ১০০টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে 'ইন্দিরাম্মা আবাসন যোজনা' সমগ্র দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমাদের সরকার সমাজের সেইসব নিঃস্ব মানুষকে চিহ্নিত করে, যাদের ন্যূনতম আশ্রয়টুকুও নেই; যাদের নিজস্ব একটি প্লট বা জমি রয়েছে, আমরা তাদের বাড়ি তৈরির জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করছি। দেশের অন্য কোনো রাজ্যে বর্তমানে এই ধরনের প্রকল্প নেই। কেন্দ্র সরকারের কোনও আর্থিক সহায়তা ছাড়াই আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ প্রদান করছি। প্রথম বছরেই আমরা ৩.৬০ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট তহবিল সরবরাহ করেছি। এই দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত যে, মাত্র এক বছরের মধ্যে অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে ২ লক্ষ পরিবার ইতিমধ্যেই বাড়িতে তাদের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। আমরা পরবর্তী তিনটি ধাপে আরও বাড়ির অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী ২ জুন আসিফাবাদ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী ইন্দিরাম্মা আবাসন যোজনার দ্বিতীয় ধাপের সূচনা করবেন।

ইন্দিরাম্মা আবাসনের পিছনের মানবিক গল্প

প্রশ্ন: ইন্দিরাম্মা আবাসন যোজনা বাস্তবায়নের সময় আপনার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে আবেগপূর্ণ ঘটনা কোনটি ছিল?

উত্তর: এমন অনেক ঘটনা আছে। বছরের পর বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে থাকা দরিদ্র মহিলাদের চোখে যখন আনন্দ দেখেছি এবং তারা যখন বলেছে, এটি আমাদের নিজস্ব বাড়ি, সেটি আমাদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে আছে, এক বৃদ্ধা মন্তব্য করেছিলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে মারা যাওয়ার আগে নিজের নামে একটি বাড়ি দেখে যেতে পারব। বহু উপভোক্তা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির ছবি হাতে নিয়ে তাদের গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করছেন। এই দৃশ্যগুলো চিরকাল স্মরণীয় ও মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে। এছাড়াও, কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই প্রকল্পটি সম্পর্কে জানার জন্য বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি।

সম্প্রতি, আমার নির্বাচনী এলাকায় আবেদনপত্র নেওয়ার জন্য একটি 'প্রজা দরবার' (জনসাধারণের অভিযোগ শোনার সভা) আয়োজন করেছিলাম, তখন জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্যে রেকর্ড ৫২ শতাংশ আবেদনই ছিল ইন্দিরাম্মা আবাসনের জন্য। এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে এই প্রকল্পটি মানুষের জন্য কতটা উপকারী এবং প্রাসঙ্গিক। ইন্দিরাম্মা আবাসনের এই বিপুল চাহিদার কারণ হলো পূর্ববর্তী বিআরএস সরকার তাদের ১০ বছরের শাসনকালে দরিদ্রদের আবাসনের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল; ফলস্বরূপ, মানুষ এখন তাদের নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে এই 'জনগণের সরকার'-এর ওপর আস্থা রাখছে।

তেলেঙ্গানার উত্থান: বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ

প্রশ্ন: দেশ-বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আয়োজিত 'তেলেঙ্গানা রাইজিং' সম্মেলন থেকে কি বাস্তবে কোনও সুফল পাওয়া গেছে?

উত্তর: তেলেঙ্গানাকে দেশের একটি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে, আমরা গত ৮ ও ৯ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের 'ভারত ফিউচার সিটি'-তে সফলভাবে 'তেলেঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট - ২০২৫'-এর আয়োজন করেছিলাম। এই সম্মেলনটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশ্বমানের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সম্মেলন চলাকালীন আমরা ১০০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বেসরকারি ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কার

প্রশ্ন: বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব সংস্কারের উদ্যোগগুলো কেমন চলছে?

উত্তর: তেলেঙ্গানায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা একটি বড় নিয়োগ অভিযান শুরু করেছি— যে প্রক্রিয়াটি গত দশ বছর ধরে স্থবির হয়ে ছিল। আজ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে কর্মসংস্থান প্রদান করেছি। এছাড়া, আমরা রাজস্ব পরিষেবাকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। আমরা রাজ্যের ১০ হাজার ৯৫৪টি রাজস্ব গ্রামকে বিভিন্ন ক্লাস্টারে বিভক্ত করেছি এবং তাদের তদারকি করার জন্য 'ভিলেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার' নিয়োগ করেছি। একইভাবে, ৫ হাজার ৫২০ জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সমীক্ষক বর্তমানে তাদের পরিষেবা দিচ্ছেন।

হায়দরাবাদ, ফিউচার সিটি এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণ

প্রশ্ন: দেশের অন্যতম প্রধান মহানগরী হিসেবে স্বীকৃত হায়দরাবাদের উন্নয়নের জন্য আপনাদের পরিকল্পনা কী?

উত্তর: হায়দরাবাদ শহরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আমরা মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ শুরু করেছি। ক্যান্টনমেন্ট এলাকাকে জিএইচএমসি (গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন)-এর সঙ্গে একীভূত করার জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আমরা পূরণ করেছি। সরকার ৩০ হাজার একর এলাকা জুড়ে ফিউচার সিটি নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি শহর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা রাজ্যটিকে তিনটি স্বতন্ত্র অঞ্চলে ভাগ করেছি: আউটার রিং রোডের ভেতরের এলাকাকে কোর আরবান তেলেঙ্গানা; আউটার রিং রোড এবং প্রস্তাবিত আঞ্চলিক রিং রোডের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে আরবান তেলেঙ্গানা; এবং আঞ্চলিক রিং রোডের বাইরের অংশকে রুরাল তেলেঙ্গানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন বিমানবন্দর স্থাপন করা হতে চলেছে, যার মধ্যে ওয়ারঙ্গল (মামনুর), আদিলাবাদ, পেদ্দাপল্লী (বাসন্তনগর)/রামগুন্ডম, কোঠাগুডেম এবং অন্যান্য জায়গা রয়েছে।

কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ

প্রশ্ন: তেলেঙ্গানায় বর্তমানে কৃষকদের জন্য কী কী উৎসাহমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে? গত আড়াই বছরে এ বাবদ কত টাকা খরচ করা হয়েছে?

উত্তর: 'রাইতু ভরসা' প্রকল্পের অধীনে আমরা যোগ্য কৃষকদের বছরে প্রতি একরে ১২ হাজার টাকা করে চাষের জন্য বিনিয়োগ সহায়তা দিচ্ছি (খরিফ/বর্ষা মরসুমের ফসলের জন্য ৬ হাজার এবং রবি/শীত মরসুমের ফসলের জন্য ৬ হাজার)। কৃষকদের ঋণের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করতে, আমরা ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৯ ডিসেম্বর ২০২৩-এর মধ্যে নেওয়া ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদী ফসল ঋণ এককালীন মকুবের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এছাড়া ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি, কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত জাতের ধানের জন্য কুইন্টাল প্রতি ৫০০ টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

কোনো কারণে কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবার যেন নিঃস্ব হয়ে না পড়ে, সেজন্য সরকার ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে বিমা সুরক্ষা করেছে। এই বিমার প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করে।

রাইতু ভরসা (ইনপুট ভরতুকি): এই প্রকল্পের অধীনে এ পর্যন্ত কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি জমা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ৭০ লক্ষ কৃষকের সুবিধার্থে ধাপে ধাপে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও রিলিজ করছে।

ফসল ঋণ মকুব প্রকল্প: বিশেষ করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য, সরকার তিন কিস্তিতে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই বছরের মধ্যে, এই জনগণের সরকার বিভিন্ন কৃষি কল্যাণ প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছে। কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে তেলেঙ্গানাকে সবার শীর্ষে নিয়ে যেতে আমরা বাজেটে কৃষি দফতরকে বার্ষিক ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করছি। এছাড়া, 'রাইতু বিমা' (কৃষক বীমা) প্রকল্পের অধীনে আমরা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪২ লক্ষেরও বেশি কৃষককে বিমার আওতায় নিয়ে আসছি।

জাতীয় নির্বাচনী প্রচারের অভিজ্ঞতা

প্রশ্ন: আপনি বিহার, কেরলম এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন, আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

উত্তর: কংগ্রেস হাই কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আমি সেইসব রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলাম। বিহারে আমি তিনটি নির্বাচনী এলাকার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছি এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। বিহারে আমাকে দেওয়া তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে আমরা জয়লাভ করেছি। কেরলমে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি-সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী প্রচারে গিয়েছিলেন। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, আমাদের দলের নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আমি যে সমস্ত আসনে প্রচার করেছিলাম, তার মধ্যে দশটি আসনে আমরা জয়লাভ করেছি। কেরলমে কংগ্রেসের জয় আমরা আগেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। আমাদের নেতা রাহুল গান্ধীর প্রভাব সেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে। অতীতে ওয়েনাড কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি কেরালমের মানুষের আরও কাছে কংগ্রেস দলকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

২০২৯ সালের জন্য তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্ন: ২০২৯ সালের নির্বাচনে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা আপনি কী দেখছেন?

উত্তর: রাজ্যের ১১৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এবার আমরা ১০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হব বলে আশা করছি। জনগণ দৃঢ়ভাবে আমাদের পাশে আছেন। আমরা জনকল্যাণকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে এগিয়ে চলছি এবং এটি নিশ্চিত করছি যাতে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম না হয়। এই প্রতিশ্রুতিই আমাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

প্রশ্ন: আপনারা যে আবার ক্ষমতায় ফিরবেন, এই আত্মবিশ্বাসের কারণ কী?

উত্তর: মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বে আমাদের সরকার যেসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, মূলত সেগুলোই আমাদের বিজয় নিশ্চিত করবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তেলেঙ্গানার মানুষ আমাদের একের পর এক বড় জয় উপহার দিয়েছেন—তা সে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন হোক, তার পরে হওয়া দুটি বিধানসভা উপনির্বাচন হোক, কিংবা পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচন। কংগ্রেস ক্যান্টনমেন্ট এবং জুবিলি হিলস উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছে— যে আসনগুলোতে আগে বিআরএস-এর প্রতিনিধিত্ব ছিল। ভবিষ্যতে এই ফলাফলেরই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। বিআরএস যদি মনে করে যে আড়াই বছর পর তারা আবার ক্ষমতায় ফিরবে, তবে তারা কেবল দিবাস্বপ্ন দেখছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande