ওএসএম বিতর্কে ধর্মেন্দ্র প্রধানের আশ্বাস, “কোনও পড়ুয়ার সঙ্গে অন্যায় হতে দেওয়া হবে না”
নয়াদিল্লি, ২৮ মে (হি.স.) : সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বৃহস্পতিবার এই পদ্ধতির পক্ষে সরব হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশেই এই ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু রয়েছে এবং
ওএসএম বিতর্কে ধর্মেন্দ্র প্রধানের আশ্বাস, “কোনও পড়ুয়ার সঙ্গে অন্যায় হতে দেওয়া হবে না”


নয়াদিল্লি, ২৮ মে (হি.স.) : সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বৃহস্পতিবার এই পদ্ধতির পক্ষে সরব হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশেই এই ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু রয়েছে এবং কোনও পড়ুয়ার সঙ্গে অন্যায় হতে দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সিবিএসই সদর দফতরে শীর্ষ আধিকারিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “সিবিএসই প্রথমবার এই ব্যবস্থা চালু করেছে। কিছু অসঙ্গতি নজরে এসেছে। এর দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। সমস্যার সমাধান করা হবে এবং আমরা সকলে সেই কাজেই ব্যস্ত।”

তিনি জানান, প্রযুক্তিগত ও পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পুরো সফটওয়্যার, কোডিং ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞ দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফি জমা দেওয়ার সমস্যার সমাধানে অর্থ মন্ত্রকের সহায়তায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং ক্যানারা ব্যাঙ্কের পেমেন্ট গেটওয়ে সিবিএসই পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি পরীক্ষায় প্রায় ১৭ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মোট ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র ছিল। প্রতিটি খাতায় গড়ে ৪০টি পৃষ্ঠা ধরে প্রায় ৪০ কোটি পৃষ্ঠা স্ক্যান করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ লক্ষ পড়ুয়া তাঁদের প্রায় ১১ লক্ষ স্ক্যান করা উত্তরপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষা করছেন। তিনি আশ্বাস দেন, কোনও পড়ুয়ার খাতা পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ অমীমাংসিত থাকবে না।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ওএসএম-এর উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতার সঙ্গে পড়ুয়াদের উত্তরপত্র দেখানো, যাতে তাঁরা নিজেদের নম্বর যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে আপত্তি জানাতে পারেন।

ডিজিটাল মূল্যায়নের চুক্তি প্রদান নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ও বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবির জবাবে শিক্ষামন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী একের পর এক নির্বাচনে হেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি আগে রাফাল, ইভিএম ও ডিজিটাল ইন্ডিয়ারও বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ভারতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পাশে নেই।”

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “সিবিএসই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রয়নীতির আওতায় সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এই চুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবুও যদি কোনও গড়মিল ধরা পড়ে, তবে সিবিএসই-র ভিতরে হোক বা বাইরে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “এটা রাজনীতি করার সময় নয়। আমাদের ১৭ লক্ষ পড়ুয়ার স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিতর্কে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই আমাদের কথাবার্তা বা আচরণে সেই চাপ আরও বাড়ানো উচিত নয়। আমি পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করছি, পুরো ডিজিটাল পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে গুছিয়ে নেওয়া হবে।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande