ঈদ-উল-আজহায় গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি, কসাইখানা বন্ধের আবেদন মুসলিম সমাজের
ফরিদাবাদ, ২৮ মে (হি.স.) : ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে হরিয়ানার ফরিদাবাদের বল্লভগড়ের উঁচা গ্রামের জামা মসজিদে বৃহস্পতিবার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেল মুসলিম সমাজের তরফে। ঈদের নামাজের পর বিপুল সংখ্যক মানুষ হাতে ব্যানার নিয়ে বেরিয়ে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দা
ঈদ-উল-আজহায় গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি, কসাইখানা বন্ধের আবেদন মুসলিম সমাজের


ফরিদাবাদ, ২৮ মে (হি.স.) : ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে হরিয়ানার ফরিদাবাদের বল্লভগড়ের উঁচা গ্রামের জামা মসজিদে বৃহস্পতিবার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেল মুসলিম সমাজের তরফে। ঈদের নামাজের পর বিপুল সংখ্যক মানুষ হাতে ব্যানার নিয়ে বেরিয়ে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি দেশজুড়ে চলা কসাইখানা বন্ধের আবেদনও করা হয়। এদিন সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তাও দেন তাঁরা।

নামাজ শেষে মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গরু হিন্দু সমাজের আস্থার প্রতীক। তাই সব ধর্মের মানুষেরই একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তাঁদের বক্তব্য, দেশে শান্তি, সম্প্রীতি এবং ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সবাইকে মিলেমিশে থাকার বার্তাই দেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।

উঁচা গ্রামের জামা মসজিদের মৌলভি জামালুদ্দিন বলেন, বকরিদ শুধু কোরবানির উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা, ত্যাগ এবং মানবতারও বার্তা দেয়। তিনি জানান, সকাল থেকেই বহু মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি, দেশের শান্তি ও সৌহার্দ্যের জন্য প্রার্থনা করেন।

মৌলভি জামালুদ্দিন আরও বলেন, অনেকেই বকরিদকে শুধুমাত্র পশু কোরবানির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। কিন্তু প্রকৃত কোরবানি হল মানুষের নিজের ভিতরের ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং খারাপ চিন্তাভাবনাকে ত্যাগ করা। সমাজে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি আরও মজবুত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ গরু ধরে কসাইখানায় নিয়ে গিয়ে তাদের উপর নিষ্ঠুর আচরণ করে। এই কারণেই মুসলিম সমাজের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক এবং দেশজুড়ে সমস্ত কসাইখানা বন্ধ করা হোক।

এদিকে, রাজস্থানেও একই ধরনের দাবি উঠেছে। জয়পুরে রাজস্থান হজ কল্যাণ সমিতির সদস্যরা ঈদের দিন গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ হাজি নিজামউদ্দিন বলেন, “দেশে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই দাবি জানানো হচ্ছে।” তিনি কুরআনের উদাহরণ তুলে ধরে সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার কথাও বলেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande