ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিন খারিজ করল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট
ভোপাল, ২৮ মে (হি.স.) : বহুল চর্চিত অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় বুধবার গভীর রাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। মৃতার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে দেওয়া আগাম জামিন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্রর একক
মামলায় শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের আগাম জামিন খারিজ করল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট


ভোপাল, ২৮ মে (হি.স.) : বহুল চর্চিত অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় বুধবার গভীর রাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। মৃতার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে দেওয়া আগাম জামিন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্রর একক বেঞ্চ ১৭ পাতার বিস্তারিত রায়ে ভোপালের দশম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের ১৫ মে দেওয়া জামিনের নির্দেশ বাতিল করে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, মামলার গুরুত্ব, প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে এই ধরনের স্বস্তি দেওয়া কোনওভাবেই ন্যায্য ছিল না। এই রায়ের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে কোনও সময় গিরিবালা সিংকে গ্রেফতার করতে পারে।

হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের ও প্রমাণ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখেনি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উল্লেখ করে আদালত জানায়, ত্বিশার শরীরে ফাঁসের দাগ ছাড়াও একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আঘাতগুলি শুধুমাত্র দেহ নামানোর সময় হওয়া সম্ভব নয়। অভিযুক্ত পক্ষও এই বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

শুনানির সময় সিবিআই, রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশান্ত সিং এবং মৃতার বাবার পক্ষের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরার বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে আদালত। সাক্ষীদের বয়ান এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা গিয়েছে, ত্বিশা গর্ভবতী হওয়ার পর তাঁর স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা তাঁর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। ত্বিশার উপর গর্ভপাতের জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হওয়া চ্যাটেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

এছাড়া, পণের দাবি এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা ট্রায়াল কোর্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের।

আদালত আরও জানায়, আগাম জামিন পাওয়ার পর থেকেই গিরিবালা সিং তদন্তে সহযোগিতা করেননি। উল্টে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করে মৃতা ত্বিশার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণ। একজন প্রাক্তন বিচারক হিসেবে এই আচরণ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

শুনানির সময় গিরিবালা সিংয়ের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, মূল অভিযোগ ত্বিশার স্বামীর বিরুদ্ধে এবং ৬৩ বছরের এক মহিলার পলায়নের সম্ভাবনা নেই। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে আদালত সেই যুক্তি মানেনি।

উল্লেখ্য, ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংকে ইতিমধ্যেই ২৯ মে পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande