ভিআইপি দর্শনের নামে টাকা তোলার অভিযোগে তিরুচেন্দুর মন্দিরে পুরোহিত-সহ চারজন সাসপেন্ড
তিরুচেন্দুর, ২৯ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলার বিখ্যাত তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের ভিআইপি দর্শনের নামে ভক্তদের কাছ থেকে বেআইনি টাকা তোলার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল মন্দির প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে এক পুরোহিত-সহ চারজনকে সাময়িক
ভিআইপি দর্শনের নামে টাকা তোলার অভিযোগে তিরুচেন্দুর মন্দিরে পুরোহিত-সহ চারজন সাসপেন্ড


তিরুচেন্দুর, ২৯ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলার বিখ্যাত তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের ভিআইপি দর্শনের নামে ভক্তদের কাছ থেকে বেআইনি টাকা তোলার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল মন্দির প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে এক পুরোহিত-সহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পুরোহিতকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মন্দিরের পরিষেবা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, কিছু পুরোহিত, নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মী মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সাধারণ ভক্তদের বিশেষ পথে দ্রুত দর্শনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামেন হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য দফতরের মন্ত্রী এস রমেশ।

শুক্রবার সকালে সাধারণ ভক্ত সেজে তিনি ১০০ টাকার সাধারণ দর্শন লাইনে দাঁড়ান। সেই সময় উপস্থিত পুরোহিত অয়্যাপ্পনের কাছে দ্রুত দর্শনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। অভিযোগ, পুরোহিত ভিআইপি দর্শনের জন্য ৪ হাজার টাকা দাবি করেন এবং জানান, টাকা দিলে বিশেষ প্রবেশপথ দিয়ে দ্রুত भगवान মুরুগনের দর্শন করানো হবে।

তদন্তের স্বার্থে মন্ত্রী নিজেই গুগল পে-র মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। টাকা পাওয়ার পর পুরোহিত বুঝতে পারেন, যাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তিনি স্বয়ং মন্ত্রী। এরপরই ঘটনাস্থলে পুরোহিত-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত পুরোহিত অয়্যাপ্পনকে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি তাঁর সহযোগী বলে অভিযুক্ত দুই নিরাপত্তারক্ষী করুপ্পাসামি ও থোপ্পুকেও পরিষেবা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রাক্তন সেনাকর্মী।

এছাড়াও মন্দিরে মুণ্ডন করাতে আসা ভক্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আরও দুই কর্মীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছে হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য দফতর।

উল্লেখ্য, তিরুচেন্দুর সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দির তামিলনাড়ুর অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত সেখানে পুজো দিতে যান। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাধারণ লাইনে দর্শনের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অভিযোগ ছিল, কিছু কর্মী ও পুরোহিত ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে দ্রুত দর্শনের ব্যবস্থা করছিলেন।

মন্ত্রী এস. রমেশের এই গোপন তদন্তের পর মন্দির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি টাকা তোলা রুখতে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande