তামিলনাড়ু, কেরলম ও পুদুচেরিতে ভোটের পর ফলের অপেক্ষা
চেন্নাই / তিরুবনন্তপুরম / পুদুচেরি, ৩ মে (হি.স.): দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরলম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নজর ৪ মে গণনার দিকে। নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী ওই দিন সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে।
তামিলনাড়ু, কেরলম ও পুদুচেরিতে ভোটের পর ফলের অপেক্ষা—২৩৪, ১৪০ ও ৩০ আসনে নজর ম্যাজিক সংখ্যায়


চেন্নাই / তিরুবনন্তপুরম / পুদুচেরি, ৩ মে (হি.স.): দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরলম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নজর ৪ মে গণনার দিকে। নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী ওই দিন সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। তিনটি অঞ্চলের ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারদের দৃষ্টি এখন ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে পরবর্তী সরকার।

তামিলনাড়ু: ২৩৪ আসনে লড়াই, ম্যাজিক সংখ্যা ১১৮

তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। রাজ্যের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে। জোট সমীকরণও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সব আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের মাধ্যমে গণনা প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। বর্তমানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রেন্ড স্পষ্ট হলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা অব্যাহত থাকে।

কেরলম: ১৪০ আসনে মূল লড়াই এলডিএফ বনাম ইউডিএফ

কেরলম বিধানসভায় মোট ১৪০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৭১টি আসন। ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট (এলডিএফ) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত গণতান্ত্রিক জোট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ও কিছু এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করার চেষ্টা করেছে।

ধর্মাদম, নেমম, পালাক্কাড়, আরানমুলা এবং পেরাভুরের মতো একাধিক আসনে ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এক্সিট পোল ইউডিএফ-এর এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিলেও ব্যবধান কম বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এলডিএফ ১৪০টির মধ্যে ৯৯টি আসন জিতে টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে। সাধারণত এলডিএফ ও ইউডিএফ-এর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সেই ধারার ব্যতিক্রম ঘটে ওই নির্বাচনে।

পুদুচেরি: ৩০ আসনে সমীকরণ

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মোট ৩০টি বিধানসভা আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬টি আসন। ৯ এপ্রিল এখানে ভোটগ্রহণ হয় এবং ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০১১ সালের নির্বাচনে এন. রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বে অল ইন্ডিয়া এন.আর. কংগ্রেস (এআইএনআরসি)-এর উত্থান পুদুচেরির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। বর্তমানে এনডিএ জোটে এআইএনআরসি, বিজেপি ও এআইএডিএমকে রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআই ও ভিসিকে। কয়েকটি আসনের ব্যবধানেই এখানে সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। পুদুচেরি, কারাইকাল, মাহে ও ইয়ানামে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গণনা অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৪ মে সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হবে, তারপর ইভিএমের ভোট গণনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভিভিপ্যাট যাচাইও করা হবে।

তিনটি অঞ্চলেই ফলাফল নির্ধারণ করবে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তামিলনাড়ুতে ১১৮, কেরলমে ৭১ এবং পুদুচেরিতে ১৬ আসনই নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande