
চেন্নাই, ৩ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুতে ভোট শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধুই ফলাফলের। ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর ৪ মে গণনা—এই ব্যবধান মাত্র ১০ দিনের, কিন্তু রাজনীতির ইতিহাসে এই অপেক্ষা কখনও কখনও অনেক দীর্ঘ থেকেছে।
একসময় এই রাজ্যে ভোটের পর ফল জানতে অপেক্ষা করতে হতো কয়েক সপ্তাহ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দূরত্ব কমেছে, কিন্তু অপেক্ষার মানসিক চাপ কমেনি। কারণ, গণনার দিনটি এখনও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একমাত্র নির্ধারক মুহূর্ত।
১৯৬৭ সালের মাদ্রাজ রাজ্যের নির্বাচন সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। আসন পুনর্বিন্যাসের পর বিধানসভায় আসন সংখ্যা হয় ২৩৪টি। ভোট হয় কয়েক দফায়। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যায়। ফলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। সেই নির্বাচনেই কংগ্রেস ক্ষমতা হারায় এবং ডিএমকে প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসে—একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা, যা পরবর্তী দশকগুলোর গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
আজও সেই ২৩৪ আসনই তামিলনাড়ুর রাজনীতির কাঠামো। সংখ্যাটি বদলায়নি, কিন্তু তার চারপাশের রাজনীতি বদলেছে বারবার। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন—একটি সংখ্যা, যা শুধু গণিত নয়, ক্ষমতার সীমারেখা।
রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে দুই শক্তির মধ্যেই ঘুরেফিরে এসেছে—ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে। কিন্তু নির্বাচনের ফল কখনও শুধুই দুই দলের শক্তির প্রতিফলন হয় না; জোট, ভোটের স্থানীয় সমীকরণ এবং সময়ের পরিবর্তনও তার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
২০০১ সালে প্রথমবার সব আসনে একযোগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন আসে। ভোট গণনা দ্রুত হয়, ফল ঘোষণার সময় কমে আসে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে না—শুধু তার প্রকাশের ধরন বদলে যায়।
আজকের দিনে ফলাফল আর কেবল গণনা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা মুহূর্তে পৌঁছে যায় রেডিও , টেলিভিশন, অনলাইন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। তথ্য দ্রুত আসে, বিশ্লেষণও দ্রুত হয়। তবুও, সেই পুরনো অপেক্ষার অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ শেষ পর্যন্ত, এই রাজনীতির কেন্দ্রে থাকে একটি সহজ প্রশ্ন—২৩৪ আসনের মধ্যে ১১৮টি কার হাতে যাবে।
সোমবার ৪ মে ফল ঘোষণার আগের এই সময়টি তাই শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক প্রতীক্ষা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য