দিল্লিতে পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর সরকার, পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক নির্দেশ
নয়াদিল্লি, ৩০ মে (হি.স.) : তীব্র গরম ও পানীয় জলের চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে দিল্লি সরকার। প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য
দিল্লিতে পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর সরকার, পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক নির্দেশ


নয়াদিল্লি, ৩০ মে (হি.স.) : তীব্র গরম ও পানীয় জলের চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে দিল্লি সরকার। প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য জল সরবরাহ বৃদ্ধি, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, জল সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী সেবা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর জল সরবরাহ পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জলমন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিং, দিল্লি জল বোর্ডের সহ-সভাপতি সতীশ উপাধ্যায়, সদস্য অজয় মহাওয়ার, মুখ্যসচিব রাজীব বর্মা, দিল্লি জল বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক বিজয় বিধুড়ি-সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওয়াজিরাবাদের কাছে যমুনা নদীতে জলের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় রাজধানীর জল সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি-র সঙ্গে কথা বলেছেন। হরিয়ানা সরকার মুনক খালের মাধ্যমে দিল্লিতে ন্যূনতম এক হাজার কিউসেক জল সরবরাহ বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।

রেখা গুপ্তা বলেন, বর্তমানে দিল্লি জল বোর্ডের ৯৮০টিরও বেশি জলবাহী ট্যাঙ্কার প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি ট্রিপ করছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলির এলাকাগুলিতে ছোট ট্যাঙ্কারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যমুনা খাদর এলাকায় অতিরিক্ত নলকূপ স্থাপন করে প্রতিদিন ১০.৫ এমজিডি (মিলিয়ন গ্যালন প্রতিদিন) জল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জল অপচয় রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়ে বলেন, জলের প্রতিটি ফোঁটাই মূল্যবান। কোথাও জল লিকেজের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আধিকারিকদের অভিযোগগুলি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে দিল্লি জল বোর্ডের হেল্পলাইনে ১১ হাজার ৫৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলিও দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, হরিয়ানা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে পরিবহণের সময় জল অপচয় ও লিকেজ কমবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করছে আইআইটি রুড়কি।

এছাড়া ওয়াজিরাবাদের কাছে যমুনা নদীতে ড্রেজিং ও পলি অপসারণ, নতুন জল পরিশোধন কেন্দ্র স্থাপন এবং যমুনা খাদর এলাকায় অতিরিক্ত নলকূপ নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

পরিশোধিত জলের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) থেকে প্রাপ্ত জল বাগান পরিচর্যা, গাড়ি ধোয়া এবং অন্যান্য অ-পানীয় কাজে ব্যবহারের জন্য ধাপে ধাপে ডুয়াল ওয়াটার সাপ্লাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

জল সংরক্ষণকে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জল সংকটের স্থায়ী সমাধান শুধু সরবরাহ বৃদ্ধি নয়, সচেতন ব্যবহার ও সংরক্ষণের মধ্যেও নিহিত।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জল সংরক্ষণে উৎসাহ দিতে ৭৫টি সিএম শ্রী বিদ্যালয়ে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীতে ৫০০টি নতুন বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং ১,০০০টি পুরনো কাঠামোর সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে।

রেখা গুপ্তা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনাগুলি দিল্লির জল নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আগামী দিনে রাজধানীকে জল সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande