
উত্তর ২৪ পরগনা, ৬ মে (হি. স.): উত্তর ২৪ পরগনার নেজাট থানার অন্তর্গত সন্দেশখালির বিটপোল এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার এক ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি দল। দুষ্কৃতীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে নেজাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) ভরত প্রসুন পুরকায়তসহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওসি ভরত প্রসুন পুরকায়তের কাঁধে ও হাতে গুলি লেগেছে। মনিকা নামে এক মহিলা কনস্টেবলের মাথায় এবং রাজবাড়ী আউটপোস্টের সাব-ইন্সপেক্টর ভাস্বত গোস্বামীর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দুই জওয়ানের বুকে গুলি লাগার খবর মিলেছে। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতার আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী আউটপোস্টের অন্তর্গত ছোট বিটপোল এলাকায় তৃণমূল নেতা মোশারফ মোল্লার বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এই খবর পেয়ে নেজাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন।
জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে কোনো হিংসা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা সরকার জানিয়েছেন, রাতে যেভাবে গোলাগুলি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি