
কলকাতা, ৬ মে (হি. স.) : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বুধবার কালীঘাটে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।প বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টিকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বহু আসনে গণনার সময় পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত আসলে এই ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ।
এদিন কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “যেভাবে গণনায় বহু আসনে গরমিল করা হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া আসলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে ওনার প্রতিবাদের ভাষা। আমাদের দলকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
জয়ী এই নেতার দাবি, রাজ্যে বর্তমানে একদল দুষ্কৃতী সক্রিয় হয়েছে যারা তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, দলীয় কার্যালয় দখল করছে এবং কর্মীদের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। বিজেপি নেতাদের আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বুলডোজার চালিয়ে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়ার বিষয়টিকে গণতন্ত্রের জন্য চরম বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষ মনে করিয়ে দেন যে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বদলা নয় বদল চাই’ স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই সময় কোনো বিরোধী দলের কার্যালয়ে আক্রমণ হয়নি। অথচ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উসকানিমূলক।
কালীঘাটের এই বৈঠকের পর এটা স্পষ্ট যে, গণনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূল এবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে চলেছে। আইনি লড়াই এবং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি