
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৬ মে (হি.স.) : এক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর আকস্মিক মৃত্যু যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরকে। বিজেপি যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি তথা ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে শোক, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার মিশ্র আবহ তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে। এখনও কাটেনি সেই ধাক্কা—বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন, বাড়ছে উত্তেজনা।
একসময় সক্রিয়, প্রাণবন্ত এবং দলীয় কর্মসূচিতে সর্বদা এগিয়ে থাকা এই যুবনেতার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের কথায়, “যে মানুষটা সবসময় হাসিখুশি, মানুষের পাশে থাকত—তাঁর মৃত্যু এভাবে হতে পারে, বিশ্বাসই হচ্ছে না।”
বুধবার শোকস্তব্ধ সেই বাড়িতে পৌঁছান বিজেপি যুব মোর্চার প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক সুশান্ত দেব। বাড়ির পরিবেশ তখন নিস্তব্ধ, ভারী—প্রতিটি মুখে শোকের ছাপ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন—এই লড়াইয়ে পরিবার একা নয়, দল সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে।
সুশান্ত দেব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, এটা আমাদের জন্য এক বড় ক্ষতি। একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারিয়েছি। সত্য সামনে আসতেই হবে—যে বা যারা দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তাঁর এই কথায় প্রতিফলিত হয়েছে দলের ক্ষোভ ও শোক—যা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
এদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না অনেকেই। তাঁদের দাবি—শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে।
রাহুল কিশোর রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীর কোনও রহস্য—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে। আর সেই অজানা উত্তর খুঁজতেই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ধর্মনগরের বাতাস।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে, বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। তবুও অস্থিরতা কাটেনি। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই এক সুরে বলছেন, “সত্যটা জানতে চাই।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ