
নয়াদিল্লি, ৯ মে (হি.স.) : পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষকে প্রতারণার অভিযোগ তুললেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর দাবি, সমৃদ্ধ ও সুখী পঞ্জাব গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আপ সরকার রাজ্যকে আর্থিক ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শনিবার রাঘব চাড্ডা বলেন, “এএপি পঞ্জাবকে ‘রঙ্গলা পঞ্জাব’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা রাজ্যের কোষাগারকে ‘কঙ্গাল’ করে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, পঞ্জাবের শিল্পমন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকে শনিবার প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর চণ্ডীগড় থেকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ১৫৭ কোটি টাকার ভুয়ো বিক্রি এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর দু’দিন আগেই ইডি মোহালির সঙ্গে যুক্ত দুটি বড় রিয়েল এস্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই সময় একটি বহুতলের নবম তলা থেকে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা নগদ নিচে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।
এই প্রসঙ্গে রাঘব চাড্ডা বলেন, “কোনও সৎ ব্যক্তি তার পরিশ্রমের উপার্জন এভাবে ফেলে দিতে পারেন না। যদি টাকাগুলি বৈধ উপায়ে উপার্জিত হত, তবে কেউ তা নবম তলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলত না।” তাঁর মতে, এই ঘটনাই দুর্নীতি ও জনসাধারণের অর্থের অপব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তদন্তে উঠে আসা নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী , কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংস্থার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার ‘রাউন্ড-ট্রিপিং’-এর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বৃহৎ দুর্নীতির নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত করছে।
রাঘব চাড্ডা আরও বলেন, “তদন্তে উঠে আসা নথি থেকে জানা যাচ্ছে, ইউএই, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সংস্থা গড়ে অর্থ ঘুরিয়ে আনার কাজ করা হয়েছে। এটা পঞ্জাবের মানুষের রায়ের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের ভিতরে দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলি তোলার চেষ্টা করলে তা চাপা দেওয়া হত। তাঁর বক্তব্য, “আমরা বারবার বলেছিলাম, এএপি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং আপসকামী লোকেদের কবলে পড়েছে। কিন্তু যখনই এই বিষয়গুলি দলের ভিতরে তুলেছি, আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
রাঘব চাড্ডার দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির ফলে এখন পঞ্জাবের মানুষের সামনে এএপি সরকারের আসল চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একদিকে পঞ্জাব প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝায় জর্জরিত, অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে যে রাজ্যের অর্থ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পঞ্জাবের কোষাগার লুট করে হাওলার মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য