
নয়াদিল্লি, ৯ মে (হি.স.) : ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)। শনিবার মুম্বইয়ে গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। রিলায়েন্স এডিএ গোষ্ঠীর সংস্থা রিলায়েন্স টেলিকম লিমিটেড, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স লিমিটেড এবং রিলায়েন্স হোম ফিনান্স লিমিটেড-সহ সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিন সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। গত ৮ মে মুম্বইয়ের সিবিআই বিশেষ আদালতের জারি করা তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। আধিকারিকদের বাসভবনের পাশাপাশি সেই সব মধ্যস্থতাকারী সংস্থার দফতরেও তল্লাশি চালানো হয়েছে, যাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ব্যাঙ্কের অর্থ সরানো এবং লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ও আপত্তিকর নথি উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, একাধিক মধ্যস্থতাকারী সংস্থা একই ঠিকানা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। এর ফলে আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাজেয়াপ্ত নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিবিআই জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ঋণের অর্থ অপব্যবহার। এই মামলাগুলিতে মোট ২৭ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
সিবিআই আরও জানিয়েছে, মামলা দায়েরের পরপরই মুম্বই-সহ বিভিন্ন জায়গায় ১৪টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ এপ্রিল রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের দুই শীর্ষ আধিকারিক ডি বিশ্বনাথ এবং অনিল কালিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
ডি বিশ্বনাথ রিলায়েন্স কমিউনিকেশনে যুগ্ম সভাপতির পদে কর্মরত ছিলেন এবং গোষ্ঠীর ব্যাঙ্কিং কার্যক্রমের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে অনিল কালিয়া উপ-সভাপতি হিসেবে ব্যাঙ্কিং কার্যক্রম, অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া এবং তহবিল ব্যবহারের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং তহবিল পরিচালনায় এই দুই আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বর্তমানে দু’জনেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেওয়া ঋণের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই মামলাগুলির তদন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে চলছে। আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য