
ছত্রপতি সম্ভাজীনগর, ৯ মে (হি.স.) : নাসিকের বহুচর্চিত টিসিএস ধর্মান্তরণ মামলাকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। শনিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর-এ এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, গোটা ঘটনাই “ঘৃণার রাজনীতি” থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং অভিযুক্ত নিদা খানের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হচ্ছে। তবে বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান ওয়েইসি।
তিনি বলেন, “শুধু অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। আদালতের উপর আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আদালতই শেষ পর্যন্ত এই তরুণীকে নির্দোষ প্রমাণ করবে।” ওয়েইসির অভিযোগ, এই মামলার মাধ্যমে শিক্ষিত মুসলিম যুবক-যুবতীদের নিশানা করা হচ্ছে।
নিদা খানের পক্ষ নিয়ে ওয়েইসি দাবি করেন, তিনি টাটা কন্সালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর এইচআর বিভাগে কর্মরত ছিলেন না এবং সংস্থার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্কও ছিল না। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে একটিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়ে গিয়েছে।”
এফআইআরের প্রসঙ্গ টেনে ওয়েইসি বলেন, নিদা খানের বাড়ি থেকে বোরখা, নকাব এবং একটি ধর্মীয় বই উদ্ধার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “এই জিনিসগুলো কবে থেকে আপত্তিকর হয়ে গেল?”
এসময় তিনি অতীতের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখও করেন। তাঁর দাবি, দিল্লিতে কয়েকজন যুবককে শুধুমাত্র মির্জা গালিবের বই রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল, পরে আদালত তাঁদের মুক্তি দেয়। একইভাবে এলাহাবাদ হাই কোর্টে উর্দু শের লেখাকে কেন্দ্র করে হওয়া গ্রেফতারির ঘটনাতেও আদালত প্রশ্ন তুলেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এআইএমআইএম কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলের বিরুদ্ধে নাসিক পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এই প্রসঙ্গে ওয়েইসি বলেন, “এখন পর্যন্ত কত বিধায়ক ও সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে? কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল যে নিদা খানকে এমআইএম কাউন্সিলরই লুকিয়ে রেখেছিলেন?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে কি কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়?”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য