বিজেপি কর্মী খুনের ৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ফের আশার আলো নিহতের পরিবারে
বারুইপুর, ৯ মে (হি. স.) : প্রায় ৯ বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সাউথ গড়িয়ার বাসিন্দা সৌমিত্র ঘোষালকে নৃশংসভাবে খুন করে সুপারি বাগানে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে
বিজেপি কর্মী খুনের ৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ফের আশার আলো নিহতের পরিবারে


বারুইপুর, ৯ মে (হি. স.) : প্রায় ৯ বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সাউথ গড়িয়ার বাসিন্দা সৌমিত্র ঘোষালকে নৃশংসভাবে খুন করে সুপারি বাগানে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কয়েকজন গ্রেফতার হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই শাস্তি পায়নি। বিচার না পেয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করে এসেছে মৃতের পরিবার।

অবশেষে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন সৌমিত্রের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন নিহত সৌমিত্র ঘোষালের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাসে আবেগাপ্লুত পরিবার।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন মা বনলতা ঘোষাল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও এখনও ছেলের খুনিদের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। বনলতা দেবী বলেন, “সেদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ছেলে। তারপর আর ফেরেনি। পরে জানতে পারি, ওকে মেরে হাত-পা বেঁধে সুপারি বাগানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ও মোদীর দল করত বলেই খুন করা হয়েছিল। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাই মনে হচ্ছে এবার হয়তো বিচার পাব।”

তিনি আরও বলেন, “বিজেপি সরকার এসেছে বলে আমরা খুব খুশি। ছেলে আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেত। তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই ও বিজেপি করত। আমরা এখন শুধু বিচারের আশায় আছি।”

সৌমিত্রের বৌদি শিখা ঘোষাল বলেন, “ও খুব সাহসী ছেলে ছিল। এলাকায় বিজেপিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করত বলেই তৃণমূলের লোকজন ওর উপর ক্ষুব্ধ ছিল। বারবার হুমকি দেওয়া হলেও ও পিছিয়ে যায়নি। শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই ওকে খুন করা হয়। সেই সময় অনেক আবেদন করেও বিচার পাইনি। বিজেপি সাংসদ রূপা গাঙ্গুলি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু দোষীদের শাস্তি হয়নি। আজ প্রধানমন্ত্রী নিজে ডেকেছেন, তাই এবার নতুন করে আশাবাদী আমরা।”

প্রতিবেশীরাও প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আশার সুর দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্ত ঘোষাল বলেন, “এতদিন পর প্রধানমন্ত্রী সেই ঘটনার কথা মনে রেখে পরিবারকে ডেকেছেন, সেটাই বড় কথা। আমরা মনে করি এবার হয়তো বিচার হবে। সেই সময় রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল ছেলেটা। মা এখনও ছেলের শোকে ভেঙে পড়েন।”

হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা




 

 rajesh pande