
রায়পুর, ১৩ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি দেশজুড়ে মানুষের আস্থা ও সমর্থনের ‘জয়ের শতক’ গড়েছে, আর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘পরাজয়ের শতক’-এর দিকে এগোচ্ছেন বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। শনিবার রায়পুরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই কে পাশে নিয়ে গিরিরাজ সিংহ বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত বিজেপি ধারাবাহিকভাবে মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের ২২টি রাজ্যে বিজেপি বা বিজেপি-সমর্থিত সরকার রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোদী সরকারের ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই সময়ে উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, গত এক দশকে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে এসেছেন। কংগ্রেস আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে দারিদ্র্য দূর হয়নি।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে গিরিরাজ সিংহ অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরির রাজনীতি করছেন। একইসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, জিতলে গণতন্ত্রের প্রশংসা, হারলেই ইভিএম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলা এখন বিরোধীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংসদের ‘অপারেশন লোটাস’ সংক্রান্ত মন্তব্যেরও জবাব দেন তিনি। গিরিরাজ সিংহ বলেন, বিজেপির এমন কোনও অপারেশন নেই, রাজনৈতিক দলগুলিকে নিজেদের কাজের ফল ভোগ করতে হয়।
ছত্তিশগড়ে নকশাল দমনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের যৌথ উদ্যোগে রাজ্য প্রায় নকশালমুক্ত হওয়ার পথে, যা একটি বড় সাফল্য।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মোদী সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতি থাকা ভারত আজ চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। যুবক, কৃষক, শ্রমিক ও মহিলাদের উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক, বিমান ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকের শেষে গিরিরাজ সিংহ ও মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই একসুরে বলেন, দেশের এই পরিবর্তন ও উন্নয়ন যাঁদের চোখে পড়ছে না, তাঁদের “চশমা বদলানোর সময় এসেছে”।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য