উডুপি সফরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, মন্দিরে পুজোর পাশাপাশি ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ
উডুপি, ১৩ জুন (হি.স.) : ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে শনিবার কর্নাটকের উডুপিতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সফর জুড়ে তিনি জেলার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে পুজো দেন
উডুপি সফরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, মন্দিরে পুজোর পাশাপাশি ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ


উডুপি, ১৩ জুন (হি.স.) : ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে শনিবার কর্নাটকের উডুপিতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সফর জুড়ে তিনি জেলার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে পুজো দেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণও করেন।

সকালে উডুপিতে পৌঁছে প্রথমেই তিনি শ্রীকৃষ্ণ মঠে যান। সেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও পুজো দেওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। মঠ কর্তৃপক্ষ ও সন্ন্যাসী সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে প্রথা মেনে স্বাগত জানান।

এরপর তিনি উডুপির দুই প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র শ্রী অনন্তেশ্বর মন্দির এবং শ্রী চন্দ্রমৌলেশ্বর মন্দিরে বিশেষ পুজোয় অংশ নেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি দেশ ও রাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন।

উডুপি সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিরুর মঠে তাঁর উপস্থিতি। বর্তমানে পর্যায় পীঠের দায়িত্বে থাকা শিরুর মঠাধীশ শ্রী বেদবর্ধন তীর্থ শ্রীপাদ তাঁকে স্বাগত জানান। মঠে ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক পরম্পরা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জাতি গঠনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মঠের পক্ষ থেকে তাঁকে স্মারকও তুলে দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি শ্রী হোসা মারিগুডি মন্দির এবং শ্রী মহালক্ষ্মী মন্দিরেও পুজো দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্দিরে তাঁর আগমন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

উডুপি সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কর্মসূচি। উচিল মহালক্ষ্মী মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নির্মলা সীতারামন ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি চারাগাছ রোপণ করেন।

সেখানে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের সম্মিলিত কর্তব্য। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক মানুষেরই বৃক্ষরোপণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “মায়ের নামে একটি গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার এক সুন্দর প্রতীক হতে পারে।”

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীর তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মন্দির ও অনুষ্ঠানস্থলগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বহু ভক্ত এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande