আপডেট...পুশব্যাক : ধোঁপে টিঁকছে না বাংলাদেশের আপত্তি, শ্ৰীভূমি ও মানকাচর সীমান্ত দিয়ে আরও ২১ জন অনুপ্রবেশকারীকে তাদের স্বদেশে ফেরত প্রেরণ
শ্রীভূমি (অসম), ১৪ জুন (হি.স.) : পুশব্যাককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ যতই আপত্তি ও বিরোধিতা করুক না-কেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ অসম সরকার। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে রাজ্য প্
যে কয়জন অবৈধ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করা হয়েছে


শ্রীভূমি (অসম), ১৪ জুন (হি.স.) : পুশব্যাককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ যতই আপত্তি ও বিরোধিতা করুক না-কেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ অসম সরকার। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে রাজ্য প্রশাসন। আর সেই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে শনিবার গভীর রাতে, যখন আসাম পুলিশ এবং বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে আরও ২১ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হলো। এদের মধ্যে ছিলেন নয়জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা এবং দুটি শিশু।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বিষয়টি প্রকাশ করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়’। তিনটি পৃথক গ্রুপের ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, ‘অসমের মাটি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ তিনি লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জোরদার করা হয়েছে সীমানা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা। আসাম পুলিশ এবং বিএসএফ-এর এক চমৎকার যৌথ প্রচেষ্টায় ২১ জন অনুপ্রবেশকারীকে দ্রুত শনাক্ত করে তাদের ভারতে প্রবেশ করা ব্যৰ্থ করে দিয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের বহুমুখী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

সাম্প্রতিককালে পুশব্যাককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘বৰ্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি), মৌলবাদী সংগঠন আনসার বাহিনী এবং স্থানীয় (বাংলাদেশ) গ্রামবাসীদের সক্রিয় জমায়েত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বিএসএফকে সতর্ক করার খবরও পাওয়া গেছে। পুশইন রুখতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি জারি থাকলেও নিজেদের নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নে ভারত তথা অসম সরকার যে অনড়, শনিবারের অভিযান সেই বার্তা আরও স্পষ্ট করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন, আসাম পুলিশ এবং বিএসএফ-এর সমন্বিত এবং সুনিয়ন্ত্রিত অভিযানের ফলেই অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলির নিবিড় সমন্বয় এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তপারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অসম সরকারের জিরো-টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যাদের পুশব্যাক করা হয়েছে, সেই ২১ জনের মধ্যে নয়জনকে দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ এখনও তাঁদের গ্রহণ না করায় ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন।

সূত্রের খবর, ছয়জনকে মানকাচরের ঝালরচর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এবং বাকি তিনজনকে সাহাপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বৈঠকের পরও বাংলাদেশ পক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, ওই নয়জন সীমান্তবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায়ই রয়েছেন। পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেজন্য ভারতের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিএসএফ এবং বিজিবি উভয় বাহিনী নিজ নিজ এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে টহলদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande