১৩ দিনেই সংক্রামক রোগে ৪১ জনের মৃত্যু, কেরলমে সতর্কতা বাড়াল স্বাস্থ্য দফতর
তিরুঅনন্তপুরম, ১৪ জুন (হি.স.) : বর্ষার শুরুতেই সংক্রামক রোগের প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে কেরলমে। জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে
১৩ দিনেই সংক্রামক রোগে ৪১ জনের মৃত্যু, কেরলমে সতর্কতা বাড়াল স্বাস্থ্য দফতর


তিরুঅনন্তপুরম, ১৪ জুন (হি.স.) : বর্ষার শুরুতেই সংক্রামক রোগের প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে কেরলমে। জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এরই মধ্যে নিপাহ ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, লেপ্টোস্পাইরোসিস বা ইঁদুর-বাহিত জ্বরে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন এবং ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বর্ষাকালে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জ্বর ও সংক্রমণজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। গত পাঁচ দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন।

বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে শিগেলা সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১৩৫টি শিগেলা সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে জুন মাসেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৯ জন। ত্রিশূরে নতুন করে শিগেলা সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসার পর সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। ওয়েনাডেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্য দফতরের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং জলবাহিত ও মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিভাবকদের শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।

শিগেলা মূলত অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটানো একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটে ব্যথা, দুর্বলতা এবং অনেক ক্ষেত্রে রক্তমিশ্রিত পায়খানা। তবে সব আক্রান্তের ক্ষেত্রেই উপসর্গ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, শরীরে জীবাণু প্রবেশের প্রায় তিন দিন পর থেকে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, নিপাহ পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্যের বর্তমান সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে নতুন করে নিপাহ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার চার দিন পরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না।

পিনারাইয়ের দাবি, এলডিএফ সরকারের আমলে নিপাহ সংক্রমণ দেখা দিলে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ সমন্বয় করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ধরনের তৎপরতা বা সতর্কতা অনুপস্থিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার সময় স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তাকে (ডিএইচএস) বদলি করা অস্বাভাবিক এবং এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নেতৃত্ব দুর্বল হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও নিপাহ মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে পিনারাই বিজয়ন বলেন, “নিপাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করব। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য দফতর, প্রশাসন এবং সরকারের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।”

বর্ষাকালে সংক্রামক রোগের বিস্তার রুখতে নজরদারি, সচেতনতামূলক প্রচার এবং স্যানিটেশন কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে কেরলমের স্বাস্থ্য দফতর।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande