
মুরৈনা, ১৪ জুন (হি.স.) : ট্রেনে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে নেমে এসেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু সেই আতঙ্কই মুহূর্তে পরিণত হল মর্মান্তিক বিপর্যয়ে। মধ্যপ্রদেশের মুরৈনা জেলায় উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস থেকে নেমে অন্য লাইনে চলে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী বিপরীত দিক থেকে আসা পাটালকোট এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ হারান। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের, যার মধ্যে তিন জন মহিলা ও একটি শিশু রয়েছে।
রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ গাড়ি নম্বর ১৯৬৬৫ উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস মুরৈনা থেকে ধৌলপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেনটি হেতমপুর ও ঘের স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা ট্রেনে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কেউ একজন চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন, “আগুন লেগেছে, আগুন লেগেছে।” আতঙ্কিত বহু যাত্রী তড়িঘড়ি ট্রেন থেকে নেমে পড়েন এবং কেউ কেউ পাশের লাইনে চলে যান। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে এসে পড়ে পাটালকোট এক্সপ্রেস। তার ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার জনের।
দুর্ঘটনার পর শোকাহত এক যাত্রী বলেন, “আমরা ইন্টারসিটিতে যাত্রা করছিলাম। কেউ একজন মিথ্যা গুজব ছড়ায় যে ট্রেনে আগুন লেগেছে। ট্রেন থামতেই সবাই লাফিয়ে নামতে শুরু করে। আমরাও নেমে পড়ি। আমার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়েছিল, আর আরেক সন্তান ট্রেনের ভেতরে ছিল। আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেই সময় উল্টো দিক থেকে একটি ট্রেন এসে লোকজনকে পিষে দেয়। আমার স্ত্রী ও সন্তান মারা গিয়েছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জিআরপি, আরপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশ। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে দিল্লি-মুম্বই রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেল ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করেন। কীভাবে আগুনের গুজব ছড়াল এবং চেন কে টেনেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী বলেন, “কেউ চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে আগুন লাগার কথা বলতে শুরু করেছিল। তারপরই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নেমে পড়েন। সেই আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াল।”
একটি গুজব যে মুহূর্তে চারটি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, মুরৈনার এই দুর্ঘটনা আবারও সেই নির্মম সত্য সামনে এনে দিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য