বিরাটনগরের হোটেলে প্রিন্স যাদবের রহস্যমৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ সঙ্গীকে আটক করল নেপাল পুলিশ
বিরাটনগর, ১৪ জুন (হি.স.) : পাটনার বিতর্কিত জ্ঞান বিন্দু কোচিং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রোশন আনন্দের ভাই প্রিন্স কুমার যাদবের নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে নেপালের মোরাং জেলা পুলিশ প্রিন্সের স
বিরাটনগরের হোটেলে প্রিন্স যাদবের রহস্যমৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ সঙ্গীকে আটক করল নেপাল পুলিশ


বিরাটনগর, ১৪ জুন (হি.স.) : পাটনার বিতর্কিত জ্ঞান বিন্দু কোচিং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রোশন আনন্দের ভাই প্রিন্স কুমার যাদবের নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে নেপালের মোরাং জেলা পুলিশ প্রিন্সের সঙ্গে হোটেলে থাকা পাঁচ সঙ্গীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ বছরের প্রিন্স কুমার যাদব বিরাটনগরের ট্রাফিক চক এলাকার শুভ হোটেলে পাঁচ সঙ্গীর সঙ্গে উঠেছিলেন। শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি হোটেলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে দ্রুত বিরাটনগর নিউরো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলেই মনে করছে নেপাল পুলিশ। মোরাং জেলার পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। হোটেল কর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রিন্সের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক লক্ষ্য, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, কেন আচমকা প্রিন্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হল এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাটনায় কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাতে প্রিন্স যাদবের নামও সামনে এসেছিল। খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এ তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই মামলায় জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের কর্ণধার রোশন আনন্দের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

প্রিন্স কেন নেপালে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাঁর গতিবিধি কী ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব এই মৃত্যুকে ‘হত্যা’ বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, রোশন আনন্দের ভাই প্রিন্স যাদবের বিরাটনগরে মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পাপ্পু যাদবের কথায়, “এক ভাই ইতিমধ্যেই জেলে, আর অন্য ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রিন্স যাদবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন তদন্ত রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষ। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande