
- গোটা বিষয়ের ওপর নজর রাখছেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য ও কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ
কাটিগড়া (অসম), ১৬ জুন (হি.স.) : প্রায় আট ঘণ্টার উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় কৃষক কাছাড় জেলান্তৰ্গত কাটিগড়া থানাধীন কিন্নখালের বাসিন্দা বাংলাদেশি দুষ্কৃতী কর্তৃক অপহৃত রঞ্জিত দাসকে ফেরাতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন।
ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে সীমান্তবর্তী কিন্নখালে ছুটে আসেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য এবং কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। সাংসদ পরিমল জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল প্রায় ১১টার দিকে কাটিগড়ার কিন্নখালে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে সুরমা নদীর পাশে নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় ৬০ বছর বয়সি রঞ্জিত দাস অন্য দিনের মতো তাঁর নিয়মিত কৃষিকাজ করছিলেন। সে সময় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ছয়-সাতজন বাংলাদেশি নৌকায় করে এসে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। তাঁকে জোর করে নৌকায় তুলে নদী পার হয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এর পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। ইতিমধ্যে কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার এবং বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনাটি দিল্লিকেও জানানো হয়েছে।’
সাংসদ পরিমল বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আবেদন জানাচ্ছি, এই ঘটনার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রঞ্জিত দাসকে অবিলম্বে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের পাশে আমার সমবেদনা রয়েছে এবং আমি আন্তরিকভাবে আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ ও নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসবেন।’
এদিকে অপহরণের সময় রঞ্জিতের চিৎকার শুনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা নৌকায় করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রাথমিক আলোচনায় রঞ্জিত দাসকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চস্তরে জানানো হয়। শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা।
উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ রঞ্জিত দাসকে ফেরানোর বিষয়ে রাত প্রায় সাড়ে সাত-আটটার দিকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই খবর লেখা পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু স্থানীয় বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে জড়ো হয়ে রঞ্জিত দাসকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি নিরাপদে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন।
এদিকে কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ জানিয়েছেন, দুই দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে উচ্চস্তরে আলোচনার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ অপহৃত ভারতীয় নাগরিক রঞ্জিত দাসকে নিরাপদে ফেরানো হবে বলে সম্মতি দিয়েছে।
তবে রঞ্জিত দাসের মুক্তি বা হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা কমলেও রঞ্জিতের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় এখনও উদ্বেগে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যগণ সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস