হিমাচলে ১৯ জুন পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাবনা বর্ষা ঢোকার
শিমলা, ১৬ জুন (হি. স.) : হিমাচল প্রদেশে আবহাওয়ার মেজাজ লাগাতার বদলে চলেছে। একদিকে যেমন ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি মানুষকে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শিলাবৃষ্টির জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষি ও আপেল বাগান মালিকদের। আবহাওয়া দফ
বৃষ্টি


শিমলা, ১৬ জুন (হি. স.) : হিমাচল প্রদেশে আবহাওয়ার মেজাজ লাগাতার বদলে চলেছে। একদিকে যেমন ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি মানুষকে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে শিলাবৃষ্টির জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষি ও আপেল বাগান মালিকদের। আবহাওয়া দফতর আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ঝড়, বজ্রপাত এবং বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জুন বেশ কিছু এলাকায় ভারী শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে।

যদিও মঙ্গলবার শিমলা-সহ রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে আবহাওয়া পরিষ্কার রয়েছে এবং রোদ ঝলমলে আকাশ দেখা যাচ্ছে, তবে আবহাওয়া দফতরের মতে এই স্বস্তি সাময়িক। বুধবার থেকেই আবহাওয়া আবার পরিবর্তন এবং ১৮ জুন বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৭ জুন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ১৮ জুন বৃষ্টির প্রকোপ আরও বাড়বে। সেদিন ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়, বজ্রপাত এবং কিছু কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯ জুনও বেশ কিছু এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘ ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বজায় থাকবে। এরপর ২০ ও ২১ জুন আবহাওয়া কিছুটা শান্ত থাকলেও ২২ জুন নাগাদ আবার কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের একাধিক অংশে ভালো বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে গোহরে। এছাড়া জোতে ৪১, কুফরিতে ৩৯.৬, নগরোটা সূরিয়াঁতে ৩৫.৬, মুরারী দেবীতে ৩১.৫, পচ্ছাদে ২৪, অলিন্দায় ২৩.৪, শিলারুতে ১৮.৮, সুন্দরনগরে ১৭.৯, কাংড়ায় ১৬.৪ এবং শিমলায় ১২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এই একই সময়ে শিমলা, জুব্বরহট্টি, কাংড়া, সুন্দরনগর, কুফরি, জোত এবং মুরারী দেবীতে বজ্রপাত ও মেঘগর্জন দেখা গেছে। পাশাপাশি শিমলা, রামপুর, চৌপাল, কিন্নর এবং মাণ্ডির কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির ঘটনাও সামনে এসেছে। সোমবার সন্ধ্যায় শিমলা এবং আপার শিমলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টির কারণে আপেল, মটরশুঁটি এবং অন্যান্য মরশুমি আনাজের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে গেছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল— কুকুমসেরিতে ৫.৩ ডিগ্রি, কেলঙে ৭.৪, কল্পায় ৮.৬, কুফরিতে ১০.১, তাবোতে ১১.৩, ভরমৌরে ১২.০, মানালিতে ১২.২, সেওবাগে ১৩.৭, শিমলা ও সোলনে ১৫.২, ভুন্টারে ১৫.৫, সুন্দরনগরে ১৬.১, ধর্মশালায় ১৬.৯, পালমপুরে ১৭.০, চাম্বায় ১৭.৬, মাণ্ডি ও সরাহনে ১৭.৭, জুব্বরহট্টি ও নাহানে যথাক্রমে ১৮.০ ও ১৮.৩, কাংড়ায় ১৮.৫, বিলাসপুরে ২১.০, নেরিতে ২১.২, পাঁওটা সাহিবে ২৪.০ এবং ডেরা গোপীপুরে ২৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর (মনসুন) আগমনের দিকেও নজর রয়েছে সবার। শিমলা আবহাওয়া কেন্দ্রের বিজ্ঞানী সন্দীপ শর্মা জানিয়েছেন, বর্ষার অগ্রগতির ওপর লাগাতার নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, হিমাচলে বর্ষা ঢোকার সঠিক পূর্বাভাস তার আসার অন্তত তিন দিন আগে দেওয়া সম্ভব। সাধারণত ২২ জুন নাগাদ বর্ষা শিমলায় পৌঁছায় এবং ২৫ জুনের মধ্যে তা পুরো রাজ্যকে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা কড়া নাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande