
নয়াদিল্লি, ১৭ জুন (হি.স.) : রাজস্থানের কোটা শহরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ মহাসমাবেশকে ঘিরে বিজেপি-কংগ্রেস তরজা তুঙ্গে উঠেছে। নিট পরীক্ষার মাত্র তিন দিন আগে এই কর্মসূচির আয়োজন করে কংগ্রেস পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
বুধবার দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ডঃ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, নিট পুনঃপরীক্ষা আর মাত্র কয়েক দিন দূরে। এই সময় দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সরকারও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর এই কর্মসূচি পড়ুয়াদের একাগ্রতা নষ্ট করতে পারে।
ত্রিবেদীর কথায়, পরীক্ষার আগে শেষ ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্থির থেকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে চায়। কিন্তু কংগ্রেসের এই কর্মসূচি পড়ুয়াদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “তিনি ছাত্রজীবনে ব্যর্থ, কর্মজীবনে ব্যর্থ, ব্যবসায় ব্যর্থ এবং রাজনীতিতেও ব্যর্থ।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা দায়িত্বশীল আচরণের বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন।
বিজেপির প্রশ্ন, নিট পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত যখন ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং আদালতও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে, তখন কংগ্রেসের এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী?
রাজস্থানকে আন্দোলনের সূচনাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি। ত্রিবেদীর দাবি, কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজস্থানে ১৯টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল, অথচ কোনও ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বিজেপি সরকারের আমলে গত আড়াই বছরে একটি প্রশ্নফাঁসের ঘটনাও ঘটেনি।
এছাড়া বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর কর্মসূচিতে ভিড় বাড়াতে ছাত্রাবাস, পিজি এবং গেস্ট হাউসের মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পরীক্ষার ঠিক আগে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি মুখপাত্র।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘টুলকিট রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে ত্রিবেদী বলেন, পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে এবং বিষয়টি আদালতের বিবেচনাধীন। সে ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের লক্ষ্য কী, তার জবাব কংগ্রেসকেই দিতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য