
রায়পুর, ১৭ জুন (হি.স.) : ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় বালি খাদানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হামলায় প্রাণ গেল বিজেপির প্রাক্তন পঞ্চায়েত উপপ্রধান ভরত সিং ওরফে লাল্লা সিং এবং তাঁর ভাই নাগেন্দ্র সিংয়ের, যিনি পেশায় শিক্ষক ছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাট থানা এলাকার নওগাইয় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরও দু'জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই নৃশংস কাণ্ডের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বুধবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভরত সিং স্থানীয়ভাবে বিজেপির সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং অতীতে তিনি পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে নওগাইয় বালি খাদানের লিজ এবং অবৈধ বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় এক গোষ্ঠীর বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী ভরত সিংয়ের বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভরত সিং, তাঁর ভাই নাগেন্দ্র সিং, রায়পুরের বাসিন্দা বীরু সিং এবং আরও এক ব্যক্তি একটি ফর্চুনার গাড়িতে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় হামলাকারীরা একটি ডাম্পার দাঁড় করিয়ে গাড়ির পথ আটকে দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এরপর গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বেরিয়ে আসার কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে গ্রাস করে গাড়িটিকে।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভরত সিংয়ের। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নাগেন্দ্র সিং, বীরু সিং এবং অপর এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে অম্বিকাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নাগেন্দ্র সিংয়ের। বাকি দুই আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রায়পুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত অক্ষয় ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মন্নু ত্রিপাঠী নামে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। আরও তিন অভিযুক্ত পলাতক এবং তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বালি খাদানের লিজ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় স্থানীয় নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর নামও উঠে এসেছে। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে এই মামলায় সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোনহাট থানার পুলিশ খুন, অগ্নিসংযোগ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরগুজা রেঞ্জের আইজি দীপক ঝা মঙ্গলবার গভীর রাতেই কোরিয়া জেলায় পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।
দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই নৃশংস হামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও ছড়িয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারে তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য