
ওয়াশিংটন, ২০ জুন (হি.স.) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসন এখন পর্যন্ত আটটি আন্তর্জাতিক সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তবে এর মধ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাতই ছিল সবচেয়ে জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসনের নীতি সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং কূটনীতি, আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমাধানের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। যুদ্ধ ও সংকট মোকাবিলায় তাঁদের পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
এর আগেও ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে একই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যেসব সংঘাতে তাঁর প্রশাসন ভূমিকা রেখেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল-ইরান, ইজরায়েল-হামাস, সার্বিয়া-কসোভো, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, রুয়ান্ডা-ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘাত। এছাড়াও ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানকে ঘিরে সংকট অন্য সব সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ছিল। কারণ এই ইস্যুর সঙ্গে একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির স্বার্থ জড়িত থাকায় সকল পক্ষকে একমত করানো অত্যন্ত কঠিন ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কও অত্যন্ত দৃঢ়।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা নির্ণায়ক ছিল এবং সেগুলির স্থায়ী সমাধান আদৌ হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য