
।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ২১ জুন (হি.স.) : বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তীকে অবিলম্বে গ্রেফতার, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং তাঁর আইনজীবী সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশভাগের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে জড়িতদের খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রবিবার সংবাদমাধ্যমে প্ৰেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এই দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে দুই নেতা গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ স্থাপনের নামে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তীর হিন্দুদের জন্য ‘আলাদা প্রদেশ’ গঠনের দাবি সংবলিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, এ সব কর্মকাণ্ড দেশের সুদীর্ঘকালের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এক গভীর অপচেষ্টা।
চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যের তীব্র ধিক্কার জানিয়ে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, অখণ্ড ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় ঐক্যকে নসাৎ করতে একটি বিশেষ মহল গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর মুখে স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ড খণ্ড-বিখণ্ড করে 'আলাদা প্রদেশ' দাবি করা স্পষ্টত রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এর মাধ্যমে দেশে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে।’’
বিবৃতিতে তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন, চৈতালী চক্রবর্তীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই বক্তব্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার একটি আন্তর্জাতিক ও দেশবিরোধী চক্রান্তের অংশ। যে কোনও ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে এবং দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ঠেকাতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতৃদ্বয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস