শ্রীভূমি শহরের বেহাল সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা, পূজার আগে শুরু হবে কাজ : মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু
- শনবিলের উন্নয়নে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং বাজারঘাট এলাকায় একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা মন্ত্রীর শ্রীভূমি (অসম), ২১ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমি শহরের বেহাল সড়ক সংস্কারের জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বর্ষাকালে আপাতত অস্থ
শ্রীভূমি শহরের বেহাল সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা, পূজার আগে শুরু হবে কাজ : মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু


- শনবিলের উন্নয়নে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং বাজারঘাট এলাকায় একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা মন্ত্রীর

শ্রীভূমি (অসম), ২১ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমি শহরের বেহাল সড়ক সংস্কারের জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বর্ষাকালে আপাতত অস্থায়ী মেরামত করা হবে, তবে দুর্গাপূজার আগে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের কাজ শুরু হবে, জানিয়েছেন মন্ত্ৰী কৃষ্ণেন্দু পাল। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেছেন শনবিলের উন্নয়নে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং বাজারঘাট এলাকায় একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মন্ত্রিত্ব লাভের পর প্রথমবার নিজের গৃহজেলা শ্রীভূমিতে পা রেখে এ খবর শুনিয়েছেন অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি, পার্বত্য অঞ্চল এবং বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের ক্যাবিনেট মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। গতকাল শনিবার রাতে শ্রীভূমি এসেছেন মন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিকাল চারটা থেকে দলীয় কার্যকর্তা ও সমর্থকদের ঢল নামে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রী শহরে পৌঁছতেই আতশবাজি, শঙ্খধ্বনি, ফুলবৃষ্টি ও ‘কৃষ্ণেন্দু পাল জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা জেলা সদর।

জেলার প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও জেলা বিজেপি কার্যালয় রেড কার্পেট, পতাকা, আলোকসজ্জা ও তোরণে সেজে ওঠে। যুব মোর্চার বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মন্ত্রীকে বরণ করে আনে। মহিলা মোর্চার সদস্যারা শঙ্খধ্বনি, কপালে তিলক ও ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। শহরের প্রতিটি মোড়ে উৎসাহী মানুষের ভিড় যেন প্রমাণ করে দিল, ঘরের ছেলের মন্ত্রিত্বে গর্বিত শ্রীভূমি।

রাত সাড়ে দশটার দিকে জেলা গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রীকে বরণ করতে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে অভিনব শুভেচ্ছা জানান হাজারো কাৰ্যকৰ্তা ও সমর্থক। জেলা বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীতের পর শুরু হয় একের পর এক সংবর্ধনার পালা। জেলা বিজেপি, জেলা পরিষদ, শ্রীভূমি পুরসভা, বিভিন্ন মণ্ডল, যুব মোর্চা, মহিলা মোর্চা, এসসি মোর্চা, ওবিসি মোর্চা এবং বিভিন্ন গাঁও পঞ্চায়েতের সভাপতি-সভানেত্রীরা মন্ত্রীকে সম্মাননা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জীব বণিক, জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, রামকৃষ্ণনগরের বিধায়ক বিজয় মালাকার, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মিশনরঞ্জন দাস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. অনিল কুমার ত্রিপাঠী, উপ-সভানেত্রী সাথী রায় কুরি, শ্রীভূমির পুরপতি রবীন্দ্র দেব সহ দলের বহু শীর্ষ নেতা।

স্বাগত ভাষণে জেলা সভাপতি সঞ্জীব বণিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা শ্রীভূমির গুরুত্ব উপলব্ধি করেই কৃষ্ণেন্দু পালকে গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন। সীমান্ত জেলার উন্নয়নের স্বার্থে একজন শক্তিশালী মন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল, যা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, তিনবারের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের মন্ত্রী হওয়া ছিল সময়ের দাবি। তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনে শুধু পাথারকান্দি নয়, উত্তর ও দক্ষিণ করিমগঞ্জ সহ গোটা শ্রীভূমির উন্নয়ন নতুন গতি পাবে।

প্রাক্তন সাংসদ মিশনরঞ্জন দাস বলেন, জেলার বহুদিনের দাবি-দাওয়া আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত হবে। মানুষের আস্থা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেই কৃষ্ণেন্দু পাল আরও বড় দায়িত্ব পেয়েছেন।

রামকৃষ্ণনগরের বিধায়ক বিজয় মালাকার বলেন, আগের ১৫ মাসের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী ৬০ মাসে উন্নয়নের নতুন ইতিহাস রচনা করবেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই শহরের সড়ক সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে বক্তব্য পেশ করতে ওঠে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, ‘এই সম্মান শুধু আমার নয়, সমগ্র শ্রীভূমি জেলার মানুষের। মুখ্যমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে বরাক উপত্যকা ও শ্রীভূমির সার্বিক উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।’

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার লক্ষ্য অসমকে দেশের অন্যতম অগ্রগণ্য রাজ্যে পরিণত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বরাক উপত্যকাও সমান গুরুত্ব পাবে।

শহরের বেহাল সড়ক, শনবিলের উন্নয়নের জন্য বৃহৎ অঙ্কের অর্থ এবং বাজারঘাট এলাকায় একটি মাল্টি-কেয়ার হাসপাতাল নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহে কোনও আপস করা হবে না। জল জীবন মিশন ২.০-এর মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রীভূমিকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, পার্ক, ফুটপাত ও নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান চালানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি। পুরসভাকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

উৎসব, আবেগ, ভালোবাসা আর উন্নয়নের অঙ্গীকার, সব মিলিয়ে শনিবারের রাত শ্রীভূমির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, উচ্ছ্বাস এবং প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, নতুন দায়িত্বে কৃষ্ণেন্দু পালকে ঘিরে জেলার মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande