
তেহরান/সুইৎজারল্যান্ড, ২২ জুন (হি.স.): পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও স্থায়ী সমাধানের পথে এখনও বড় বাধা লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানিতে কিছু ছাড়, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং পুনর্গঠনমূলক প্রকল্প শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এগুলোর সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেবাননের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর।
এরই মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বৈঠকের প্রথম দফা শেষ হয়েছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আগের সমঝোতাগুলির বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে ইরানের তেল রফতানির অনুমোদন, স্থগিত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির দাবি করেছে তেহরান। একইসঙ্গে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখার কথা জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কারিগরি পরিকাঠামো এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না। দেশের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য