তিরুভল্লুরের মতো গ্যাস দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেব না: তামিলনাড়ুর শ্রমমন্ত্রী
চেন্নাই, ২২ জুন (হি.স.): তামিলনাড়ুর তিরুভল্লুর জেলার একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে পাঁচ মহিলা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দিলেন শ্রমকল্যাণমন্ত্রী মহম্মদ পারভেজ। তিনি জানান, ভ
তিরুভল্লুরের মতো গ্যাস দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেব না: তামিলনাড়ুর শ্রমমন্ত্রী


চেন্নাই, ২২ জুন (হি.স.): তামিলনাড়ুর তিরুভল্লুর জেলার একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে পাঁচ মহিলা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দিলেন শ্রমকল্যাণমন্ত্রী মহম্মদ পারভেজ। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রাজ্য সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বিপজ্জনক শিল্পগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

মন্ত্রী জানান, রবিবার উথুকোট্টাই তালুকের কান্নিগাইপের গ্রামে অবস্থিত সেন্ট পিটার অ্যান্ড পল সি ফুড এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড কারখানায় আইস ফ্লেকস জেনারেটরে যাওয়া পাইপলাইনের একটি ভাল্ভে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় কারখানা ও শ্রমিক আবাসনে থাকা বহু কর্মী গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সরকারি হিসাবে, দুর্ঘটনায় মোট ৭৪ জন আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ৭০ জন মহিলা এবং চার জন পুরুষ। পাঁচ মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৫ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ২৭ জন বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। আরও ২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দু'লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া মৃত শ্রমিকদের মরদেহ তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে পাঠানো এবং শেষকৃত্যের সমস্ত ব্যয়ও রাজ্য সরকার বহন করবে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য দফতর, জনস্বাস্থ্য দফতর এবং তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক এবং তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৬,৬৬৯টি বিপজ্জনক শিল্পের আওতায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসব শিল্পে বিশেষ নিরাপত্তা পরিদর্শন চালানো হবে। গ্যাস সংরক্ষণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং শ্রমিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও ত্রুটি ধরা পড়লে অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তাও রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিরুভল্লুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande