
বাসন্তী, ২৫ জুন (হি.স.): কৈশোর ছাড়িয়ে যৌবনের পথে পা বাড়ানো বছর ষোলোর সাহিল কখনও কলকাতা শহর নিজের চোখে দেখেনি। অথচ নিজের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এমনকি পরিবারের সদস্যদের কাছেও এই শহরের কত গল্পই না শুনেছিল সে। হঠাৎ করে এই শহর দেখার সুযোগ পেয়ে তাই হাতছাড়া করতে চায়নি সাহিল। আর এই কলকাতা শহর দেখার ইচ্ছেটাই কাল হল সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের রামচন্দ্রখালি গ্রামের বাসিন্দা সাহিল সর্দারের। বুধবার দুপুরে কলকাতার তারাতলায় বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বৃহস্পতিবার ভোরে সেই মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছয় বাসন্তীর বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সকলেই।
দিন পনেরো আগে বাসন্তীর মুড়োখালি গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সাহিল। মামাতো দাদারা প্লাম্বিংয়ের কাজ করেন ভিন রাজ্যে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাড়িতে ফিরেছেন, নতুন করে আর যাননি বাইরের রাজ্যে। সেই সময় কলকাতায় কাজের বরাত পান তাঁরা। ঠিকাদারের নির্দেশে তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজের সুযোগ আসে তাঁদের কাছে। কলকাতায় দাদারা যাচ্ছেন শুনে সাহিলও বায়না ধরে সে যাবে। কিন্তু তার দাদা মোস্তাকিন গায়েন প্রথমে ভাইকে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। কিন্তু ভাই নাছোড়বান্দা, কলকাতা শহর দেখতে যাবেই। অগত্যা দুই মামাতো দাদা ও দুই প্রতিবেশীর সাথে কলকাতায় রওনা দিয়েছিল সাহিল। প্রতিদিন কাজ সেরে নিজেদের অস্থায়ী আস্তানায় ফেরার সময় দাদাদের সাথে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখত সে।
বুধবারও একইভাবে তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজে গিয়েছিলেন মোস্তাকিনরা। কিন্তু সেদিনই দুর্ঘটনা ঘটল। বহুতলের ধংসাবসেসের মধ্যে চাপা পড়ল ওঁরা প্রত্যেকেই। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু হলেও সাহিল নিখোঁজ ছিল বুধবার রাত পর্যন্ত। এদিকে মোস্তাকিন ও তাঁর বাঁকি সঙ্গীদের গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাঁরা এসএসকেএম চিকিৎসাধীন। এদিকে গভীর রাতে ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হয় সাহিলের নিথর দেহ। এদিন ভোরে সেই খবর এসে পৌঁছয় বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি গ্রামে। খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
সাহিলের মা ছোকিনা সর্দার বলেন, “ পা ভেঙে গিয়েছিল বলে বছর খানেক ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ। মাঝে মধ্যেই মামা বাড়িতে বেড়াতে যেত। এবারও দিন পনেরো আগে গিয়েছিল। কিন্তু এবার জেদ ধরল কলকাতা দেখতে যাবে দাদাদের সাথে। বারণ করিনি। গত সোমবার ফিরে আসার কথাও ছিল। কিন্তু আসেনি, বলল আর কদিন বাদে ফিরবে। কিন্তু আর ফেরা হল না ওর। আমি বিচার চাই। যাদের জন্য এই বাড়ি ভেঙে পড়ল তাদের শাস্তি চাই।”
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা