
নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (হি.স.) : মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগামী তিন বছরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, মাদকমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তৈরি। এবার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনও রকম আপস নয়, 'রুথলেস অ্যাপ্রোচ' নিয়েই এগোতে হবে।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নার্কো-কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এনসিওআরডি)-এর দশম শীর্ষস্তরের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রের ৪৪টি মন্ত্রক ও দফতরের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার মোট ১০৮ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
এদিন 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ভিশন ডকুমেন্ট (২০২৬-২০২৯)' প্রকাশ করেন অমিত শাহ। পাশাপাশি প্রকাশিত হয় এনসিবি-র বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫। জম্মু ও গুয়াহাটিতে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র নবনির্মিত আঞ্চলিক কার্যালয়েরও উদ্বোধন করেন তিনি।
বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মাদক চক্রকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতেই হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, একদিকে মায়ানমার-থাইল্যান্ড-লাওসের 'ডেথ ট্রায়াঙ্গল' এবং অন্যদিকে আফগানিস্তান-ইরান-পাকিস্তানের 'ডেথ ক্রিসেন্ট'-এর মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে ভারত। ফলে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের নানা কৌশলের মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশকে।
শাহ জানান, ড্রোনের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ, সমুদ্রপথে কনটেনারবাহী কার্গো, ডার্ক নেট, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন এবং 'অর্ডার টু ডেলিভারি' মডেলের পার্সেল পরিষেবা— এই সব আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে এই লড়াই জেতা সম্ভব নয়।
তাঁর কথায়, মাদক পাচার এখন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। প্রযুক্তিনির্ভর, সুসংগঠিত ও বহুস্তরীয় অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে এই নেটওয়ার্ক। তাই গোটা চক্রকে লক্ষ্য করে আধুনিক গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল এবং সমন্বিত অভিযান চালানোর উপর জোর দেন তিনি।
'রুথলেস অ্যাপ্রোচ' প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কঠোরতা দেখাতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, কিন্তু যাঁরা মাদকের শিকার, তাঁদের প্রতি থাকতে হবে সহানুভূতিশীল মনোভাব। তাঁদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও সরকারের।
তিনি জানান, ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের কর্মপরিকল্পনা চারটি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এগুলি হল— আইন প্রয়োগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান; প্রিকার্সর কেমিক্যাল ও সিন্থেটিক মাদকের উপর নিয়ন্ত্রণ; মাদকের চাহিদা হ্রাস ও ক্ষতি প্রতিরোধ; এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সমন্বয় ও নজরদারি।
অমিত শাহ বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা 'সমগ্র সরকার' ও 'সমগ্র সমাজ'-এর ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সব দফতরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই মাদকমুক্ত ভারতের লক্ষ্য পূরণ করতে চায় সরকার।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য