প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় শুল্কে বাড়তি সুবিধা না মিললে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নয়: পীযূষ গোয়েল
নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (হি.স.) : প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় শুল্ক (ট্যারিফ) ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা না পাওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ)-তে ভারত সই করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী
প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় শুল্কে বাড়তি সুবিধা না মিললে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নয়: পীযূষ গোয়েল


নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (হি.স.) : প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় শুল্ক (ট্যারিফ) ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা না পাওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ)-তে ভারত সই করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তবে তিনি জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দুই দেশই সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে।

লন্ডনে আয়োজিত ইন্ডিয়া গ্লোবাল ফোরাম (আইজিএফ) ইউকে-ইন্ডিয়া উইক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, উৎপাদন শিল্পে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকা দেশগুলির তুলনায় যদি ভারত শুল্কের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা না পায়, তাহলে এই চুক্তি কার্যকর করা হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে যে উন্নয়নের একই স্তরে থাকা অথবা ভারতের মতো ব্যয় কাঠামো রয়েছে এমন দেশগুলির তুলনায় আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় থাকবে।’’

তিনি জানান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চিন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা-সহ ভারতের প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় কম শুল্ক ভারতের লক্ষ্য।

এদিকে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুকেশ আঘি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় কম বা অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক (প্রেফারেন্সিয়াল ট্যারিফ) চাই, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

মুকেশ আঘি বলেন, বিষয়টি ১০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ শুল্কের নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির তুলনায় কম শুল্ক পাওয়ার। বর্তমানে ভারতের উপর ১২.৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতি ভারতের কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্ব মেনে নেবে না, কারণ এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই সমস্যার সমাধান জরুরি। তাঁর আশা, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজবে, যা ভারত ও আমেরিকা—উভয় দেশের পক্ষেই লাভজনক হবে।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই নয়াদিল্লির বাণিজ্য ভবনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দু'দিনব্যাপী মন্ত্রীস্তরের বৈঠকে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং আমেরিকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার।

বৈঠকে ২৪ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার তরফে সমস্ত বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের উপর আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়। আগামী ২৪ জুলাই ওই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে। উল্লেখ্য, এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande