
নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (হি.স.) : দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও কার্যকর করতে বিপন্ন প্রজাতি চিহ্নিত ও বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) প্রকাশ করল জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষ (এনবিএ)। জীববৈচিত্র্য আইন, ২০০২-এর ৩৮ নম্বর ধারার অধীনে এই এসওপি জারি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিপন্ন প্রজাতি চিহ্নিতকরণ, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং বিজ্ঞপ্তি জারির প্রক্রিয়াকে অভিন্ন, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করানো।
শুক্রবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক জানিয়েছে, জীববৈচিত্র্য আইন, ২০০২-এর ৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্র সরকার এমন কোনও উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করতে পারে, যা বিলুপ্তির মুখে অথবা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। কোনও প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি হলে তার সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়। পাশাপাশি ওই প্রজাতির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশের ১৭টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৫৯টি উদ্ভিদ এবং ১৭৩টি প্রাণী প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এসওপি-তে বিপন্ন প্রজাতি চিহ্নিতকরণ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা, বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং প্রচলিত জ্ঞান—সবকিছুকেই মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই কাজে স্থানীয় সম্প্রদায়, জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা কমিটি, বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।
কোনও প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করার পর তার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য