
কারাকাস, ২৬ জুন (হি.স.): মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের জোড়া ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। প্রলয়ঙ্কারী এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশটিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন ১,৫০০-রও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও কয়েক হাজার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে -এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে ৭.৫ তীব্রতার দ্বিতীয় শক্তিশালী কম্পনটি (আফটারশক)। ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও এই কম্পনে কেঁপে ওঠে। এরপরও অনবরত ভূ-গর্ভস্থ আলোড়নের কারণে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। পরবর্তী আফটারশকগুলোর তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৬-এর বেশি হওয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেঙে পড়া বহুতল ও বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের টেনে বের করতে উদ্ধারকারী দলগুলো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। ইউএসজিএস-এর স্বয়ংক্রিয় বিপর্যয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রায় ৪২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুঁতে পারে। এছাড়াও ভূমিকম্পের জেরে প্রবল ধস এবং মাটির তরলীকরণ -এর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভেনেজুয়েলা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। দেশটি ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত, যা একে অপরের বিপরীত দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে প্রতিনিয়ত ভূ-গর্ভে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এবারের জোড়া ভূমিকম্পই দেশের অন্যতম সক্রিয় এবং বিপজ্জনক 'বোকোনো ফল্ট' -এর কাছে উৎপত্তি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সিসমিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেন। এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক ভূমিকম্পে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৮১২ সালের ঐতিহাসিক মহাবিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩০,০০০ মানুষ।
ভয়াবহ এই সংকটের মুখে ভেনেজুয়েলাকে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। 'ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্য রেড ক্রস' জরুরি লজিস্টিক অপারেশন শুরু করে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক কিট হিসেবে ৪০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন ফেডারেল এজেন্সির মাধ্যমে সম্পদ জড়ো করার কাজ শুরু করেছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র নাটালিয়া মোলানো জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালানো।
এদিকে, বিপর্যয়ের জেরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইবেরিয়া, এয়ার ইউরোপা, কোপা এয়ারলাইন্স, অ্যাভিয়ানকা এবং লাতাম-এর মতো আমেরিকা ও ইউরোপের প্রধান বিমান সংস্থাগুলো কারাকাসগামী সমস্ত উড়ান অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল ঘোষণা করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি